সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ ০৪:২৫:০১ পিএম

সন্তান দানে অক্ষম, স্ত্রীকে ত্যাগ করলেন প্রবাসী স্বামী

রুমেল কাজী | খোলা কলাম | রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ০৪:৪৬:৫১ পিএম

রিপা আক্তার ১৯৯৬ সালে ভোলার আব্দুর রহিমের সঙ্গে পরিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন৷ আর দশটা নতুন জীবন যেমন শুরু তাদেরও তেমনই ছিলো৷ জীবন চলছিলো যৌবনের নিয়মে৷ কিন্তু যৌবনের যে চাহিদা অনেককিছুর!বাড়ি লাগবে !গাড়ি লাগবে!ঘ রের বাইরেও অতিরিক্ত একজন সঙ্গী লাগবে। প্রশ্ন হলো কার? স্ত্রীর? উওরটা হ্যাঁ! তবে তা শ্রেণী ভেদে উচুঁ তলার কিছু মানুষের! কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের স্ত্রীর বাড়িগাড়ির স্বপ্ন যেন দুষ্প্রাপ্য দুঃস্বপ্ন আর ঐ একই অবস্থানে মানে মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বামীদের এই বেরাম(রোগ)টা প্রকট৷
বাংলাদেশের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের বর্তমানে সবচেয়ে বড় বেরাম "বাবা" (ইয়াবা )"দরবেশ" (ফেনসিডিল),"ইল বাবা মতিঝিল" (গাঁজা) ৷ 
কোন রকম স্কুল বা কলেজের বারান্দা পার হতে পারলেই মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেদের অধিকাংশেরই মাথায় যা ভর করে তা হলো -"নাহ্ এই দেশে আর কিছু হবে না "৷ 
এই ভাবনাটি একসময় তাদের মাথায় জায়গা করে নেয়৷ শুরু হয় নতুন খেলা৷ পরিবারের উপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন৷টাকা,টাকা টাকা,টাকা দাও!বিদেশ যাবো কিন্তু সব পরিবারের কি সব সন্তান কে বিদেশ পাঠাবার ক্ষমতা থাকে ??
যাদের নেই তারা নিজ সন্তান কে দুর্বিষহ জীবন থেকে বাঁচাতে সহজ একটা পথ বেছে নেন আর তা হলো বিয়ে৷
আশেপাশের জীবন নিয়ে নোবেল বিজয়ী অভিজ্ঞ  আপনজনরা পরামর্শ দেন -ছেলে টা তো শেষ !"ওরে একটা বিয়ে করিয়ে দাও, দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে"!!
বাবা মা ও চিন্তা করে, ঘরে বৌ এলে ভালোই হয় যদি ছেলে ঠিক হয় ?শুরু হয় কুরবানীর গরু দেখা৷ সঙ্গে  পরিবারিক কিছু দলিল লেখক দিয়ে কুরবানীর গরু রান্নার বাজার লিস্ট- পিঁয়াজ -ত্রিশ কেজি-পঞ্চাশ হাজার ,তেল -বিশ লিটার-এক লক্ষ,আদা -দশ কেজি-পঞ্চাশ হাজার,রসুন -দশ কেজি-ঊনচল্লিশ হাজার,গরম মশলা - এক লক্ষ,, টাকা,ইত্যাদি ইত্যাদি ৷ 
অবশেষে নিজের বকে যাওয়া হীরে মানিক এর জন্য অন্যের ঘর থেকে একটি কুরবানীর গরু আনা হয় তার জীবন কুরবান করতে ৷  সঙ্গে আদা ,পিঁয়াজ,রসুন বাবদ কিছু সেলামি৷ খবরদার ভুলেও তা যৌতুক বলবেন না৷ উপহার !
মেয়ে নিয়ে আসার সময় আবার ইঙ্গিত দিয়ে আসে ,বিয়াই এখন তো ছেলে আমার একার না ,আপনার ও তাই ছেলের সব কিছু খেয়াল রাখতে হবে কিন্তু !আমার মামাতো ভাইয়ের চাচাতো ভাই ,তার শালার ফুফাতো ভাইয়ের ভাগ্নের শালা দুবাই থাকে ,তার সঙ্গে আলাপ করেছি ,খুব ভালো ভিসা,বেতন--- ভালো,একটু মাথায় রাখবেন৷
গরীব ঘরের অতি আদরের সন্তানটিকে  বুকে পাথর বেঁধে ধার -দেনা করে যতদূর সম্ভব আদা -রসুন দিয়ে সঙ্গে একটি ছোট মেয়ে দিয়ে বিশ্বজয় করা মানিক রতন জামাই বাবুর হাতে সপে দেন বাবা মা ৷ 
মেয়েটি চোখের জলে আপন ভুবন ছেড়ে আসল ভুবনে পা দেয়৷ বিয়ের দিনের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঘরে জমা হয় জামাইর বাড়ির সংসার জীবনে অভিজ্ঞ নোবেল বিজয়ী স্বজন৷ শুরু হয় আদা রসুনের বস্তায় আক্রমণ৷
ওমা এটা কি দিলো ?দাম তো !!!??ওমা ওটা কি দিলো বৌয়ের মা ??ফকির না কি ??ছি !ছি !মান -সম্মান আর থাকলো না !!বৌ দেহি কালা !দাঁত উঁচা !চুল দেহি নাই !কি গো বৌ তোমার মা দেহি ফোহীন্নী !!!লগে ইডা কেডা ?তোমার বইন ??কি গো বালা একটা কাফর নাই !??এমন হাজার টা কথা দিয়ে শুরু ৷ জামাই বাবু ব্যস্ত বন্ধুদের নিয়ে ৷ দুস্ত আজ ইনটেক মাল আনছি তোর জন্য ৷ জামাই বাবু "বাবা",দরবেশ"আর ইল বাবা মতিঝিল" শেষে ঘরে এসে কুরবানীর গরুর এক টুকরো মাংস পাতে নিয়ে না খেয়েই ঘুম!!!শরীর বলে কথা !
এমনই এক মানিক রতন ভোলার আব্দুর রহিমের সঙ্গে ১৯৯৬ সালে পরিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন কুলিয়ারচরের মেয়ে রিপা আক্তার ৷  তার ছোট নাম (প্রকাশে অনিচ্ছুক) অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পরই শুরু হয় নিয়মে পরিণত হওয়া সেই চরিত্রের আবির্ভাব৷ আব্দুর রহিম বিদেশ যাবে,তাই টাকার দরকার,আর এই টাকা কিভাবে আনতে হয় তা যৌতুক লোভী সব স্বামীই ভালো জানে ৷ আব্দুর রহিম ও তার ব্যতিক্রম করেনি ৷ রিপা তার বাবার দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান,তার বাবার প্রথম পক্ষের সংসার বড়,এর পরও তার বাবা ধার দেনা করে মেয়ের জামাইর জন্য টাকা জোগাড় করে আব্দুর রহিম কে বাহরাইন পাঠায়৷ বাহরাইন গিয়ে কিছু দিন যোগাযোগ থাকলেও দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রিপার সঙ্গে যোগাযোগ কমতে থাকে আব্দুর রহিমের ৷ স্বামী বিদেশ থাকলে আর দশটা শ্বশুরবাড়িতে মেয়েদের সঙ্গে যা হয় রিপার সঙ্গে ও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷
আব্দুর রহিম তার বাড়ির কোন খোঁজ খবর রাখেন না৷ সংসারের হাল ধরতে রিপা স্থানীয় গার্মেন্টেসে চাকুরী শুরু করেন ৷ দীর্ঘদিন আব্দুর রহিমের যোগাযোগ বিছিন্ন থাকায় দিশেহারা রিপা ৷ অনেক কষ্টে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্পর্কের উন্নতি করতে চেষ্টা করে এবং তাকে বাহরাইন নিয়ে যেতে অনুরোধ করে ৷ দীর্ঘদিন পীড়াপীড়ির পর আব্দুর রহিম জানান তিনি ভিসার ব্যবস্থা করতে পারবেন কিন্তু  টাকা পয়সার দিতে পারবেন না ,রিপাকে তার বাবা বাড়ি থেকে টাকা ব্যবস্থা করতে বলেন ৷ রিপা রাজী হয় ,আর বাবা বাড়ি থেকেই টাকার ব্যবস্থা করে অনেক ঘুরাঘুরির পর স্বামীর কাছে যেতে সক্ষম হোন ৷ আব্দুর রহিমই নেয়ার ব্যবস্থা করেন ৷বাহরাইন যাবার কিছু দিন পর আবিষ্কার হয় আব্দুর রহিমের আসল রূপ আব্দুর রহিম গোপনে আর একটি বিয়ের আয়োজন প্রায় করেই রেখেছেন ,শুরু হয় রিপার উপর অত্যাচার ,অপবাদ, যা সচরাচর হয় ৷ রিপার সন্তান হয় না তাই সে আর একটা বিয়ে করবেন ,এমন অভিযোগ তুলে প্রতিনিয়ত রিপাকে অত্যাচার করে এমন কি সবশেষ প্রতারক আব্দুর রহিম রিপাকে কোন দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন ৷ রিপা সব বুঝতে পেরে নিজেকে বাঁচাতে বাংলাদেশে চলে এসে ৷ স্বামীর বাড়িতেই আশ্রয় নেয়৷ রিপার সঙ্গে ঘটে যাওয়া কিছুই বুঝতে না দিয়ে সে সংসার করতে থাকে কিন্তু তাতে ও শেষ রক্ষা হলো না ,দেবরের কু -প্রস্তাবে রাজী না হওয়া ঘরের সামান্য বিষয় নিয়ে তর্ক করে রিপা কে স্বামী পক্ষের লোক জন মেরে ফেলার জন্য গোপন ফন্দি আঁটে এবং তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়৷ প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় প্রান বাঁচিয়ে রিপা বাবার বাড়ি আশ্রয় নেয় এবং থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণ:-
(নারীওশিশু নির্যাতন দমন   ট্রাইবুনাল নং-০১ চট্রগ্রাম। বিষয়:ফৌজদারী অভিযোগ।  "রিপা আক্তার "বাদীনি।    আসামী ১*আব্দুর রহিম ২*মো: সোলেমান কবির(উভয় পিতা-মোতাহের হোসেন। ৩*মোতাহের হোসেন, ৪*নুরজাহান বেগম (স্বামী :মোতাহের হোসেন)। সর্বসাং:মধ্য পেসকার হাওলা, গুরা মিয়া হাওলাদার বাড়ী (নাছির উকিলের বাড়ীর পাশে) পো: ফুলবাগিচা, থানা: লাল মোহন, জেলা: ভোলা। (আসামীগন)     ঘটনার তারিখ :০১/০২/১৬ সন্ধ্যা ৭.০০টা। স্হান :- বাদিনীর বর্তমান বসত ঘর। অভিযোগের ধারা :-২০০০সালের নারীওশিশু নির্যাতন দমন   আইন(২০০৩ সংশোধনী)১১(গ)/৩০ ধারা।)
রিপা ও তার পরিবারের অভিযোগ- সন্তান দানে অক্ষমতার অভিযোগে যে প্রতারক তার জীবন নষ্ট করে নতুন ঘর বাঁধলো সে প্রতারক এর বিরুদ্ধে মামলা থাকা স্বত্ত্বেও কোন অদৃশ্য কারণে নীরব প্রশাসন !আর সর্বহারা রিপা!
তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুর রহিমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন টিতে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি ৷
এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। ইউরোবিডিনিউজ এবং ইউরোবিডিনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন