বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ ১০:৪০:৩২ এএম

শৈশবে আমার ‘ঈদ আনন্দ’

সাজ্জাদ হোসেন | উপসম্পাদক | বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ০১:৩৮:২৭ পিএম

আমার শৈশবে ঈদ ছিল এক অসাধারণ আনন্দ ও খুশির ঝংকারের মতো। ঈদের দিন খুব ভোরে উঠে গোসল শেষ করে একদম নতুন আনকোরা পোশাক পরার একটা রেওয়াজ ছিল। আসলে সমস্ত আনন্দটাই ছিল পোশাকের চাকচিক্যের মধ্যে।
নিজকে মানিয়ে নেওয়া নতুন কাপড়ের গন্ধ,স্টাইল এবং সৌন্দর্য সারা দেহের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তো। এই আনন্দের কোন ভাগ ছিল না। একেক জনের এককে রকম পোশাক। নতুন জুতো এবং বাহারি টুপি। পোশাক পরেই কিছু মিষ্টি খাবার খেতে হতো। খাওয়ার পর আব্বু-আম্মু আমার শরীরে কিছু সুগন্ধি লাগিয়ে দিতেন। সুরমাদানী থেকে চোখে সুরমা পরিয়ে দিতেন। 
তারপর দাদুর সাথে নামাজে যাওয়ার জন্য সকলের সাথে দল বেঁধে আমরা পথে নেমে আসতাম। ঈদের মাঠ ছিলো আমাদের বাড়ি থেকে কাছেই। সেখানে আগেই ঈদের নামাজের জন্য নানা ধরনের কাপড় ইত্যাদি বিছিয়ে দেয়া হতো। তার উপর আমরা বাড়ি থেকে নিয়ে আসা রং বেরংয়ের সুজলী কাপড় ইত্যাদি বিছিয়ে জায়গা দখল করে বসে পড়তাম। 
তখনকার সময়ের বিখ্যাত মাওলানা হারুন অর রশীদ ঈদের নামাজের আগে তার বয়ান দিতেন। সেই ভাষণও ছিলো অত্যন্ত সহজবোধ্য, সুন্দর এবং তেজস্বী।আশেপাশে ঈদগা ময়দানের বাইরে অন্যান্য ধর্মাবলম্বিরা আমাদের নামাজ দেখতে জমায়েত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো। নামাজ শুরু হলে মুরুব্বিরা নামাজের সময় কি করতে হবে তা ছোটদের বুঝিয়ে দিতেন। আমরা সে অনুযায়ী নামাজ পড়তাম। 
নামাজ আদায় শেষ হলে দোয়া করা হতো। তারপর ময়দান থেকেই শুরু হতো কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়। ছোটদের আনন্দের বিষয় ছিল তাদের বিচিত্র পোশাক আর মুরুব্বিদের আগে আগে আনন্দে উৎসাহে কলরবে মুখরিত অবস্থায় বাড়ি ফেরা। বাড়ি ফিরে শুরু হতো কদমবুচি ও খানা। পোলাও কোরমা ইত্যাদি খাবার অত্যন্ত মজাদার করে রান্না করা হতো। 
খাওয়ার আনন্দের সাথে যুক্ত হতো কদমবুচি করে সকলকে খেতে আহ্বান করা। সবার উপরে ছিল রান্না করা পোলাউ এবং কোর্মার সদ্ব্যবহার। অবশ্য এ খাওয়া বেশি খাওয়া যেতো না। যে ঘরেই যাই তারা টেনে বসিয়ে দিতো খাওয়ার দস্তরখানে। আমি যেহেতু কোর্মা পোলাও ইত্যাদি ঘিয়ে রান্না করা খাবার খেতে বেশি পারতাম না সেজন্যে দাদী-নানীরা হেসে বলতো ‘আহা! কুত্তার পেটে ঘি-ভাত হজম হয় না।’ 
এতে সবাই হেসে উঠতো। তবু যতোটুকু সাধ্যে কুলায় খেতাম।আমার পাতে বেছে বেছে মাংশের রানের গোশ্ত দাদী-নানীরা তুলে দিতেন। বলতেন, এ সবটা খেতে হবে। কিন্তু খাওয়া ছিলো খুবই দু:সাধ্য কাজ আমার পক্ষে। আমি একটু মিষ্টিযুক্ত খাবার পছন্দ করতাম বেশি। এই জন্যে হলদে জর্দা-ভাত যতোটুকু পারি খেয়ে যেতাম। মনে হতো ঈদের খাবার বেশি খাওয়া যায় না। তবুও আনন্দে উৎসাহে ভরপুর চিত্তে ঈদের খাবার খেয়ে সকলের সাথে হইচই করতে বেরিয়ে পড়তাম।
এর চেয়ে আনন্দের দিন শৈশবে আর কিছুই ছিলো না। পোশাকের নতুন গন্ধ। মনে হতো কী আনন্দ। এই ভাবে আমাদের ছেলেবেলার ঈদের আনন্দের স্মৃতি মনের মধ্যে বহন করে চলেছি।
সাজ্জাদ হোসেনউপ-সম্পাদক, ইউরোবিডিনিউজ.কম

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন