শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৫১:৩৮ এএম

আলহাজ্ব শফিকুল আলম তোতা একজন আলোকিত মানুষ

নজরুল ইসলাম | খোলা কলাম | সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ০২:০৫:১০ পিএম

আলহাজ্ব শফিকুল আলম তোতা শুধু একটি নাম নয়, যেন একটি প্রতিষ্ঠান। আমি
ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এই মানুষটি উপজেলার সেরুয়া দহপাড়া গ্রামের উন্নয়নে
সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার উন্নয়নে উনার ভূমিকা
অনিস্বীকার্য। আমাদের গ্রামের অধিকাংশ লোক যমুনা নদীর ভাঙ্গলের ফলে
সারিয়াকান্দি উপজেলা থেকে এখানে এসে বসতবাড়ি গড়ে তোলে। আমার বাব-চাচারাও
৬০ এর দশকে সারিয়াকান্দির নাড়াপালা গ্রাম থেকে এখানে এসে জীবন জীবিকা শুরু
করে। আমাদের গ্রামে শিক্ষার হার ছিল শূন্যের কোঠায়। শফিকুল আলম তোতা হাজ্বী
সাহেব যখন ৯০ এর দশকের প্রথম দিকে সেরুয়া আদর্শ রেজিঃ বে-সরকারী প্রাথমিক
বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, তখন আমাদের গ্রামে শিক্ষকতা করার মতো একজন
শিক্ষিত লোকও ছিল না। ১৯৯৫ সালে যখন সেরুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
করেন, তখনও শিক্ষকতা করার মতো একজন শিক্ষিত লোক খুঁজে পাওয়া যায় নাই।
হাজ্বী সাহেব এই দুটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করার ফলে আমাদের গ্রামের শিক্ষার হার
আসতে আসতে বাড়তে থাকে। আমাদের গ্রামে এখনও উচ্চ শিক্ষার হার খুবই কম।
আমাদের গ্রামের অধিকাংশ লোক ছিল খুবই দরিদ্র। এরশাদের আমলের শেষের দিকে এবং
খালেদা জিয়ার আমলের প্রথম দিকে ধান চালের ব্যবসা করে অনেকেই বড়লোক হয়ে
যান। তাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করলেও বেশীদূর এগুতে পারেনি। ঐ বাব-চাচার
ব্যবসাই তারা দেখাশুনা করছে।

এই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার ফলে
আমাদের গ্রামের শিক্ষা-দীক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্র দ্রুত উন্নতির
দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর পিছনে আলহাজ্ব শফিকুল আলম তোতা সাহেব মূল চালিকা
শক্তি হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি আমাদের গ্রামে আনসার ভিডিপি ক্লাবও
প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুরুতে এখান থেকে গ্রামের অনেক যুবক-যুবতী প্রশিক্ষণ
গ্রহণ করে ও ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে। তাই আমাদের গ্রামের উন্নয়নের
প্রাথমিক ভিত্তি প্রস্তর তাঁর হাতেই হয়েছে। তাছাড়া মানুষের বিপদে আপদে
সবসময় তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি শেরপুর থানা বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা
সাধারন সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। আলহাজ্ব
গোলাম মোঃ সিরাজ এমপির সাথে রয়েছে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। ১৯৯১ সালের জাতীয়
নির্বাচনে সিরাজ ভাই এমপি নির্বাচিত হন। তখন থেকেই আমি দেখে আসছি- সিরাজ
ভাই শেরপুর আসলেই তোতা হাজ্বী সাহেবের বাসায় উঠতেন। আমরা তখন হাজ্বী
সাহেবের বাসায় ভিড় জমাতাম। সিরাজ ভাই এখনও সেই ধারাটা বজায় রেখেছেন। তাই
সিরাজ ভাইয়ের কাছে অনুরোধ- যদি কখনও সুযোগ হয়, আল্লাহ্‌র রহমতে আমাদের
স্কুলের নামকরণ আলহাজ্ব শফিকুল আলম তোতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় করে দিবেন।
যেন এই নামকরণের মাধ্যমে হাজ্বী সাহেব আজীবন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকেন।


হাজ্বী সাহেব স্কুল প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে এই স্কুলের সভাপতির দায়িত্ব
পালন করে আসছেন। ১৯৯৮ সালে আমার এসএস'সি পরীক্ষার পূর্বে উনি হজ্বে যান।
হজ্বে যাওয়ার আগে উনি দোয়া নেওয়ার জন্য আমাদের ক্লাসে ঢুকেন। ক্লাসে ঢুকে
উনি ঘোষণা দিলেন- এসএস'সি পরীক্ষায় তোমাদের মাঝে যদি কেউ স্টার মার্ক পাও,
তবে তাকে আমি স্বর্ণের আংটি উপহার দিবো। আল্লাহ্‌র রহমতে একমাত্র আমিই
সর্বপ্রথম এই স্কুল থেকে স্টার মার্ক নিয়ে এসএস'সি পাশ করি। হাজ্বী সাহেব
হজ্ব করে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে স্বর্ণের আংটি উপহার দিয়েছিলেন।


২০০২ সালে সেরুয়া বটতলার হাট নিয়ে সংঘর্ষের জের ধরে ধুনট রোড তালতলায় আমাকে
একা পেয়ে গামা রাজ্জাক ধাওয়া দিয়েছিল। আমি এক দৌড়ে হাজ্বী সাহেবের বাসায়
এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম। হাজ্বী সাহেব তৎক্ষণাত আমাকে নিয়ে ধুনট রোড তালতলায়
রওনা দিলেন এবং বললেন গামা রাজ্জাকের এত বড় সাহস তোকে ধাওয়া দেয়, চল যাই
দেখি। গিয়ে দেখি গামা রাজ্জাক সটকে পড়েছে। সেদিনের কথা আমি আজীবন মনে
রাখবো। নেতা হলে এমনই হওয়া উচিৎ। কর্মীর বিপদ আপদে সবসময় পাশে থাকে। হাজ্বী
সাহেবের সহধর্মিনীও খুব ভালো মনের মানুষ। আমি বিপদ আপদে উনার বাসায় গেলেই
ভাবী সুন্দর ব্যবহার করতেন, বসতে দিতেন। ভাই বাসায় না থাকলে ভাবী টেলিফোন
এগিয়ে দিয়ে বলতেন- অমুক জায়গায় আছে, টেলিফোন করো। তখন মোবাইল ছিল না, আমি
টেলিফোনে ভাইয়ের সাথে কথা বলতাম।

এই মহান ব্যক্তি এখন শেরপুর উপজেলা
বিএনপি'র আহবায়ক হয়েছেন। আমি দোয়া করি- মহান আল্লাহ্‌পাক যেন আপনাকে নেক
হায়াত দান করেন এবং সুস্থ্য সবল ভালো রাখেন। আপনার হাত দ্বারা যেন মানুষের
প্রত্যাশিত সুন্দর একটি কমিটি শেরপুর উপজেলাবাসী পায়। আমীন!

নজরুল ইসলাম

লেখক, সমাজকর্মী



(খোলা কলাম- মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়)



খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন