সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ০৩:০২:৩৮ পিএম

রাজনীতিবিদদের হাতে রাজনীতি নেই: তোফায়েল

রাজনীতি | রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ০৪:৫৫:৫২ এএম


বর্তমানে রাজনীতি দেশের রাজনীতিবিদদের হাতে নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা ছাত্রজীবনে আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করেছিলাম। আজকে দেশের পত্রপত্রিকা পড়লে টেন্ডার, টাকার পেছনে ছোটার খবর পড়ি। এগুলো আমরা কখনো ভাবতেও পারিনি।’
রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনে শনিবার সন্ধ্যায় এক শোকসভায় তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের স্মরণে এই শোকসভার আয়োজন করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ একজন মহান নেতা, ব্যক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। তাঁর ক্ষমতার প্রতি কোনো লোভলালসা ছিলই না। এ মহান নেতা ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবেন। জাতীয়ভাবে তিনি সমাহিত না হলেও, তিনি একজন কিংবদন্তিতুল্য মহান নেতা।

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ সব সময় গণমানুষের নেতা ছিলেন। সচ্ছল পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি জনগণের সেবায় আত্মত্যাগ করেছিলেন। তাঁর মতো ত্যাগের উদাহরণ দেশে খুব বেশি নেই। আদর্শ, নীতি-নিষ্ঠা ও মূল্যবোধের পথে চলে তিনি অন্যতম ইতিহাস নির্মাতা নেতা।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বর্তমান রাজনীতি লুটেরাদের হাতে। আজকের রাজনীতি এমন সব বড়লোকের হাতে যারা এ দেশের মানুষের স্বার্থরক্ষা করে না। অথচ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ছিলেন জনমানুষের নেতা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন, কিন্তু সেই মর্যাদা তাঁকে দেওয়া হয়নি।

রাষ্ট্রযন্ত্র জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করছে বলে সভায় মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যবস্থাগুলোতে পচন ধরে গেছে। আগে রাজনীতিবিদেরা রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করত। আর এখন রাষ্ট্রযন্ত্র জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশে একটা বিকল্প প্রয়োজন। অধ্যাপক মোজাফফর চিরঞ্জীব আছেন, থাকবেন।’

অধ্যাপক মোজাফফরের মৃত্যুতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, অধ্যাপক মোজাফফরের স্মরণে ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করা হোক।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) নেতা আ স ম আবদুর রব বলেন, দেশের কত বুদ্ধিজীবী, কত রাজনীতিবিদ রাষ্ট্রীয় পদকের জন্য লালায়িত হয়ে থাকেন। অথচ অধ্যাপক মোজাফফর স্বাধীনতাপদক ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। সমাজ থেকে যখন লজ্জার মৃত্যু হচ্ছে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন যখন বিসর্জন যাচ্ছে, তখন ভীষণ প্রয়োজন ছিল মোজাফফর আহমদের মতো নেতার।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হননি। তিনি সর্বদা ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন।

শ্রমিকনেতা ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ বিরল নেতৃত্বের মানুষ ছিলেন, যিনি তাঁর নীতি থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। রাজনীতিতে তাঁর পদক্ষেপ ছিল বাস্তবসম্মত।

শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের সহধর্মিণী ও ন্যাপ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমিনা আহমদ বলেন, ‘মোজাফফর আহমদকে এত মানুষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসত তা আমরা ভাবতে পারিনি। তাঁর আদর্শ যদি আমরা লালন ও চর্চা করতে পারি, তবেই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।’

সভায় মোজাফফর আহমদের কন্যা আইভী আহমদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ন্যাপ সদস্য এনামুল হক, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, সাবেক মন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন