শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৭:০১:৫৭ এএম

নওগাঁয় যৌতুকের বলি হলো গৃহবধূ

জেলার খবর | নওগাঁ | সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০১৬ | ১২:১৪:০৬ এএম

বিয়ে হয়েছিল প্রায় ছয় মাস আগে। আনুষ্ঠানিকতার সময় দেওয়া হয়েছে নগদ দুই লাখ টাকা ও সাড়ে চার ভরি সোনার গহনা। কিন্তু বরপক্ষের দাবি ছিল পালসার মোটরসাইকেল। সেই দাবি সময় মতো পূরণ করতে পারেনি কন্যাপক্ষ। এ নিয়ে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। শেষ পর্যন্ত যৌতুকের বলি হন গৃহবধূ গোলাপী রানী সাহা (১৯)। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। রবিবার দুপুরে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ছোটমুল্লুক গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। 
নিহত গোলাপী রানী ওই গ্রামের দুলাল চন্দ্র সাহার স্ত্রী ও নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার জারুল্যাপুর (ধাউড়িয়া দান্দপুর) গ্রামের দীনেশ চন্দ্র মন্ডলের মেয়ে। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী দুলাল চন্দ্র সাহা গা ঢাকা দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ফাল্গুন মাসে ছোটমুল্লুক গ্রামের ননী গোপাল সাহার (সম্ভু) ছেলে দুলাল সাহার সঙ্গে গোলাপী রানীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে প্রতিবেশী কারও সঙ্গে গোলাপী রানীকে মেলা-মেশার সুযোগ দিত না শ্বশুর ননী গোপাল ও শাশুড়ি বুলু রানী সাহা। রবিবার দুপুর ১টার দিকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে গোলাপী রানীর নিথর দেহ দেখতে পান। এ অবস্থায় তাকে ভটভটিতে করে সাবাইহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে নিহতের শ্বশুর ননী গোপাল ও শাশুড়ি বুলু রানী দাবি করেন, দুপুরের খাবার রান্না করে পুত্রবধূ সোহাগী দোতালায় যান। দীর্ঘ সময় পরও ফিরে না আসলে তারা খোঁজাখুজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে মাটির ঘরের তালায় গিয়ে দেখেন, টিনের তীরের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে গোলাপী ঝুলে রয়েছে। তাৎক্ষণিক ছেলে দুলাল সাহার সহায়তায় তাকে সেখান থেকে নামিয়ে সাবাইহাট স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন তারা।
তবে নিহতের কাকাতো ভাই দ্বিজেন চন্দ্র মন্ডল জানান, বিয়ের সময় বরপক্ষের সকল দাবি পূরণ করা হলেও পালসার মোটরসাইকেল দিতে পারেননি তারা। ভগ্নিপতিকে কিস্তিতে সেটি কিনে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। 
দ্বিজেন চন্দ্র অভিযোগ করে বলেন, বোন গোলাপী রানীর নামে কবলাকৃত ২২ কাঠা জমি রয়েছে। এছাড়া বাবার রয়েছে আরো ৬-৭ বিঘা ধানী সম্পত্তি। এসব সম্পত্তি বিক্রির জন্য বোনকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি আরো অভিযোগ করেন, যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় গোলাপীকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে পরিবারের লোকজন।
এ ব্যাপারে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে। তবে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছেনি বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।   
 

 

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন