সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ ০৩:২৫:৫৩ এএম

শুরু হোক আমাদের শহীদদের ঋণ শোধ করার দিন

সম্পাদকীয় | বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৭:০১:০৭ পিএম

সেলিনা আক্তার: একুশে ফেব্রুয়ারী বাঙালির জাতীয় জীবনে এক গৌরবময় ও ঐতিহ্যবাহী দিন । বাঙ্গালির জাতীয় জীবনের সকল চেতনার উৎস হচ্ছে এ দিনটি । বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করার ঐতিহাসিক দিন এটি ,। এদিনেই বাঙ্গালির তাজা রক্ত রাজপথে ঝরেছিল ।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি , এই দিনে বাংলার দামাল ছেলেরা মায়ের ভাষায় অধিকার রক্ষার জন্য স্বৈরাচার শাসকের হুকুমের গোলাম সেই সময়কার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় । এতে সালাম , বরকত , জব্বার , রফিকসহ নাম না জানা অনেক মায়ের সন্তান শহীদ হয় । এর বিনিময়ে রক্ষা পায় আমাদের মাতৃভাষা ।

২১ ফেব্রুয়ারী বাঙ্গালী জাতির এক স্মরণীয় দিন । এই দিনটিতে অনেক মায়ের বুক খালি করে বাংলার সন্তানেরা , মায়ের ভাষাকে রক্ষা করার জন্য নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ঢাকার রাজপথ রক্তে রাঙিয়ে দিয়ে মায়ের ভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার করে দিয়েছেন । এই দিন ইতিহাসের খাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখা হয়েছে । আর্ন্তজাতিক ভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে এখন ২১ ফেব্রুয়ারী কে।

এই দিনটি আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন সহ সমস্ত আন্দোলনের বাঙালি জাতিকে প্রেরণা যুগিয়েছে । বাঙ্গালির এই রক্ত ঝরা দিনটিকে সারা বিশ্বে স্মরণীয় করে রাখতে ইউনেস্কো , আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সম্মান জানিয়েছে শহীদদের প্রতি ।

আজকাল আধুনিক পিতা/ মাতা রা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য , নিজের সন্তানদেরকে নিজের ভাষায় বুলি না ফুটিয়ে অন্য ভাষায় বুলি ফুটানোর জন্য প্রতিযোগিতায় ওঠে পরে লেগেছে । প্রথমত আব্বু , আম্মু না ডেকে , ডাকে ডেড এবং মাম । শুভ সকাল না বলে , এর পরির্বতে গুডমর্নিং । তারা মনে করে সন্তানদেরকে বাংলায় কথা না শিখিয়ে যদি ইংরেজিতে কথা শিখায় তাহলে সমাজে উচু শ্রেণীর মানুষ হিসেবে গণ্য হবে ।

পরের ভঙ্গিকে নকল করে নটের মত চলাটা আমাদের একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে ।

বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতা দিতে সন্তানদেরকে অবশ্যই সুশিক্ষিত করতে হবে । সেই জন্য কি নিজের মাতৃভাষা বাংলাকে ভুলিয়ে? এই মায়ের ভাষা রক্ষা করার জন্য যারা শহিদ হয়েছেন ,সেই ভাষা সৈনিকদেরকে কতটুকু স্মরণ করছি এবং সম্মান দেখাচ্ছি ।

শুধু ২১ ফেব্রুয়ারী আসলে সবাই গলা মিলিয়ে বলে উঠি , আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী ,আমি কি ভুলিতে পারি , এক গুচ্ছ ফুল নিয়ে সকাল বেলায় প্রভাত ফেরিতে বাহির হ য়ে শহিদ মিনারে খালি পায়ে গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ।

সংবাদকর্মী
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক,
ইউরোবিডিনিউজ.কম

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন