সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ ০১:৩৮:০২ পিএম

ছাত্রলীগ মেয়েটিকে ফেসবুকে কেউ বলছে লেডি মাস্তান!

খোলা কলাম | শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০১৮ | ০৩:৫৮:২১ পিএম

প্রভাস আমিন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম না হলেও বাংলাদেশের গণমাধ্যম নারীর মর্যাদার বিষয়ে যথেষ্ট সংবেদনশীল। গণমাধ্যমে ধর্ষিতার নাম-পরিচয়-ছবি প্রকাশ করা হয় না। শুধু ধর্ষণের ক্ষেত্রে নয়, নারী সামাজিকভাবে হেয় হতে পারেন, এমন ঝুকি থাকলেই তার পরিচয় গোপন রাখা হয়।

কিন্তু গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিল্ডিঙের ঘটনায় এ নীতিটি আমরা সবাই ভুলে গেছি যেন। সেদিনের ঘটনায় গণমাধ্যমে একটি ছবি ছাপা হয়েছে, যাতে দেখা যাচ্ছে ছাত্রলীগের একজন নেত্রী এক শিক্ষার্থীর পোশাক ও চুল ধরে টানা-হ্যাচড়া করছে। এই ছবির আগে পরে নিশ্চয়ই আরো অনেক ছবি আছে। হয়তো আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ সবই হয়েছে। কারণ ছবির আক্রমণকারী মেয়েটি এখন হাসপাতালে ভর্তি। তারপরও আমি ধরে নিচ্ছি, ছাত্রলীগ নেত্রীরই দোষ। কিন্তু আমরা যে সেই দুই মেয়ের যুদ্ধের ছবি ছেপে দিলাম, তাদের নাম-ধাম-পরিচয় প্রকাশ করে দিলাম; তা কি নীতিনিষ্ঠ হলো? নাকি ছাত্রলীগ করে বলেই নারী হিসেবে প্রাপ্য তার সুরক্ষা দেয়ার কথা আমরা ভাবিনি।

আক্রমণকারী ও আক্রান্ত দুইজনেরই সব ইতিহাস এখন সবার জানা, চেহারাও চেনা। ছাত্রলীগ নেত্রী মেয়েটিকে এমনভাবে চিত্রিত করা হয়েছে, যেন সে ভয়ঙ্কর কেউ। ফেসবুকে কেউ তাকে বলছে লেডি মাস্তান, কেউ বলছে লেডি বদরুল। এই মেয়েটি পরে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় যখন সবাই তাকে টিজ করবে, তখন সে দায় কে নেবে?

সেদিনের ঘটনার জন্য ছাত্রলীগের তীব্র সমালোচনা করে আমি একাধিক লেখা লিখেছি। কিন্তু ছাত্রলীগকে বিপাকে ফেলতে গিয়ে আমরা যেন একটা মেয়েকে ঘায়েল না করি, তার ছবি যেন না ছাপি, তার ছবি দিয়ে যেন পোস্টার না বানাই।

আমাদের এই পুরুষ নিয়ন্ত্রিত সমাজে নারী এইটুকু মর্যাদা ও সুরক্ষা প্রাপ্য। রাজনীতি করতে গিয়ে আমরা যেন নারীর মর্যাদার বিষয়টি ভুলে না যাই। লেখক

লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন