রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১১:৩১:৫১ এএম

কৃষকের হাসি কেড়ে নিলো ইঁদুর

জেলার খবর | বরিশাল | বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০২:২০:৪২ পিএম

বরিশালে চলতি মৌসুমে আগৈলঝাড়া উপজেলায় আমনের বাম্পার ফলন হলেও ইঁদুরে জমির ফসল বিনষ্ট করায় হাসি কেড়ে নিয়েছে কৃষকের। জমিতে রোপিত একমুঠো ধানও কাটকে না পেরে কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।

সরজমিনে উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, চলতি আমন মৌসুমে তারা একটি ব্লকে প্রায় ১৭ একর জমিতে ‘লাল পাইকা’ জাতের ধান চাষ করেন।

কৃষক দীপংকর বাড়ৈ জানান, তিনি ৮০ শতক জমিতে রোপা আমনের চাষ করেছিলেন। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও তার ক্ষেতে শীষ বেড়িয়ে বেশ ভালো ফলন হয়েছিল। তিনি তার জমি থেকে ৩৫ থেকে ৪০ মণ ধান ঘরে তোলার আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে ধানের শীষ বেড় হওয়ার পর তার জমির সম্পূর্ণ ধান ইঁদুরে কেটে ফেলায় একমুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারেননি তিনি। ধান কাটার জন্য কাঁচি নিয়ে জমিতে যেতে পারেননি।

কৃষক দীপংকরের মতো ওই গ্রামের কৃষক প্রফুল্ল বেপারি ৮০ শতক, বিজয়া বেপারি ৬০ শতক, রাজ্যেশ্বর হালদার ৬০ শতক, রাখাল রায় ৪০ শতক, শিখা বেপারি ৩০ শতক, সুরেশ বেপারি ৬০ শতক, শীতল রায় ২০ শতক, আলমগীর ভূঁইয়া দুই একর, সুকুমার হালদার ৭০ শতক, ওহাব আলী ফকির এক একর ৪৬ শতক, শংকর রায় এক একর, সুনীল বেপারি ৪০ শতক জমিসহ ওই গ্রামের ৪০/৪৫ কৃষক প্রায় ১৭ একর জমিতে রোপা আমনের চাষ করেছিলেন।

কৃষক রাজ্যেশ্বর ও সুরেশ বেপারি চরম দরিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত হয়েও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ও স্থানীয়ভাবে ধার দেনা করে ধান চাষ করেছিলেন। ইঁদুরের কারণে একমুঠো ধান ঘরে তুলতে না পারায় তার পরিবারে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। স্থানীয় চাষীদের হিসেব মতে, প্রায় ১৭ একর জমিতে অন্তত সাত থেকে আট শ’ মণ ধান ইঁদুরে সম্পূর্ণ বিনষ্ট করেছে।

কৃষাণী বিজয়া বেপারি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই তিনি জমি চাষাবাদ করে জীবনযাপন করে আসছেন। এ বছর বেসরকারী এনজিও কারিতাসের সুফল-২ প্রকল্পের আওতায় জমি চাষাবাদ করেন তিনি। ইঁদুরের কারণে কোন ফসল ঘরে তুলতে না পেরে বিধবা বিজয়া ও তার তিন মেয়ে কি খেয়ে দিন কাটাবেন সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

কারিতাসের কৃষি প্রযুক্তি কর্মকর্তা নোবেল বিশ্বাস বলেন, তাদের এনজিও থেকে কৃষকদের বীজ ও কীটনাশক সহায়তা দেয়া হয়েছিল। ফলন ভাল হওয়া সত্ত্বেও ইঁদুরে ধান কাটার খবরে তিনি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার পরামর্শে কৃষকদের ইঁদুর নিধনসহ প্রতিকারের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি কৃষকের ফসল।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন, ইঁদুর খুব দ্রুত বংশ বিস্তার করে। বছরে এক জোড়া ইঁদুর তিন হাজার বাচ্চা দেয়। একটি ব্লকে কারো একার পক্ষে ইঁদুর নিধন বা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। সব কৃষকরা একদিনে এক সঙ্গে ইঁদুর নিধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, তবেই ইঁদুর নিধন সম্ভব। ক্ষতিগ্রস্ত বাকাল নওপাড়া ব্লকের কৃষকদের ইঁদুরের ক্ষতি সম্পর্কে তিনি অনেক দেরিতে জেনেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন