রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০৪:০৩:৩৪ পিএম

দৌলতপুরে চলছে প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্য

রোকনুজ্জামান | জেলার খবর | কুষ্টিয়া | শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ০৬:৪৯:৫১ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কোচিং সেন্টারে চলছে জমজমাট শিক্ষাবাণিজ্য। এতে করে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

পাশাপাশি গরিব, অসহায় শিক্ষার্থীরা ওই সব কোচিং সেন্টারে কোচিং করতে না পেরে পরীক্ষায় ‘ফলাফল ভালো’ করতে পারছে না বলে তাদের পড়ালেখায় বিপর্যয় ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারি নীতিমালায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাইভেট কোচিং পরিচালনা নিষিদ্ধ থাকার পরেও বড়গাংদিয়া নাসির উদ্দিন মহা বিদ্যালয়, খলিসাকুন্ডি ডিগ্রী কলেজ, গোয়ালগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়,বড়গাংদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খলিসাকুন্ডি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়সহ উপজেলার সরকারি, বেসরকারি, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের অসাধু শিক্ষকরা এসব বিদ্যালয়ের-কলেজের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে তাদের নির্দিষ্ট কোচিং সেন্টারে সকাল-সন্ধ্যা কোচিং করতে বাধ্য করছেন বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ জানিয়েছেন।

জানা গেছে, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব বিদ্যালয়- কলেজ শিক্ষকদের কোচিং সেন্টারে কোচিং ক্লাস করতে অস্বীকৃতি জানালে পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের অকৃতকার্য দেখানো হয় বলে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ১ শতাধিকের বেশি কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে।

এ সব কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা শহর গ্রামগঞ্জের হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে চটকদার সাইনবোর্ড, ব্যানার টানিয়ে এবং এ সব সাইনবোর্ড, ব্যানারে ‘শতভাগ পাশের নিশ্চয়তা’ দিয়ে জমজমাটভাবে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

শতভাগ পাশের নিশ্চয়তায়’ শিক্ষার্থীরাও আকৃষ্ট হচ্ছেন। তারা পরীক্ষায় কৃতকার্য ‘ভালো ফলাফলের’ আশায় এসব কোচিং সেন্টারে বেশি টাকা দিয়ে হলেও ‘ভর্তি হওয়ার অসম প্রতিযোগিতায়’ নামতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরকারি-বেসরকারি, রেজিস্টার্ড স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা সরকারি বেতন- ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করার পরও এ সব বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও পাঠদান না দিয়ে অসাধু উপায়ে ‘কোচিং সেন্টার’ গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এতে করে স্কুল-কলেজের পড়ালেখা বিদ্যালয়মুখি না হয়ে ‘কোচিংমুখি’ হয়ে পড়েছে। অপরদিকে, অভিভাবকমহল তাদের সন্তানদের কৃতকার্য’ আর ‘ভালো ফলাফলের’ আশায় স্কুল-কলেজে পাঠানোর পরেও ‘কোচিংমুখি’ করতে বাধ্য হয়ে পড়েছেন। এতে করে অভিভাবকমহল চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন এক অসম প্রতিযোগিতা আর আর্থিক অনিশ্চয়তায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, তিনি কোচিং বাণিজ্যর সঙ্গে জড়িত না প্রায়ভেট বাণিজ্যর অভিযোগ নিষিদ্ধ কোচিংয়ের প্রকাশ্য বাণিজ্যসকালে স্কুল, দুপুরে কোচিং সেন্টার কোচিং সেন্টার, যার যাত্রা শুরু হয়েছিল স্কুলের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে।

সময়ের পরিক্রমায় এ কোচিং সেন্টারই পরিণত হয়েছে স্কুলের প্রতিপক্ষে। আগাছা যেভাবে গাছকে ঢেকে ফেলে, তেমনি স্কুলের চেয়ে এখন বড় হয়ে গেছে কিছু কোচিং সেন্টার! কোচিং ব্যবসাকে নিষিদ্ধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্কুল- কলেজ ফাঁকি দিয়ে মন্ত্রণালয়- নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পাঠদানে ব্যস্ত খোদ সরকারি-বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা।

এসব শিক্ষককে ব্যবহার করে কোচিং সেন্টারগুলো বাড়াচ্ছে শিক্ষার্থী। ট্যাক্স-ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে বাড়াচ্ছে আয়ও। এসব কোচিং সেন্টারে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মোটা অঙ্কের অথের বিনিময়ে পড়ানো হয়।

কোচিং সেন্টার নীতিমালায় কোনো স্কুল বা কলেজ ক্যাম্পাসে কোচিং বা প্রাইভেট কার্যক্রম চালানোর অনুমোদন না থাকলেও মনিটরিংয়ের অভাবে এভাবেই কোচিং কার্যক্রম চালাচ্ছে স্কুল, কলেজসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন