রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০৫:২৩:১৮ পিএম

কুষ্টিয়ায় বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং

রোকনুজ্জামান | জেলার খবর | কুষ্টিয়া | মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ০৪:৩৮:১০ পিএম

কুষ্টিয়ায় অসহনীয়মাত্রায় বেড়েছে লোডশেডিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। গত কয়েক দিনের এমন লোডশেডিংয়ে নাকাল স্থানীয়রা।

শহরের পরিস্থিতি এমন হলেও পল্লী অঞ্চলের অঞ্চলের অবস্থা আরও নাজুক। যেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ ঘণ্টাও থাকে না বিদ্যুৎ। এমন অসহনীয় লোডশেডিংয়ে কুষ্টিয়ায় চাল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

সেই সঙ্গে চিকিৎসাসেবা অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, কুষ্টিয়া জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১১৫ মেগাওয়াট। সেখানে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৬০ মেগাওয়াটেরও কম।

এদিকে, অসহনীয় লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা বাণিজ্যে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম বৃহত্তম চালের মোকাম খাজানগরে উৎপাদন নেমে গেছে প্রায় অর্ধেকে। যার প্রভাব পড়ছে চালের বাজারে। ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবাও।

জেলার ২২ লাখ মানুষের ভরসা কুষ্টিয়ার আড়াইশ শয্যার হাসপাতালে লোডশেডিং হলে বন্ধ থাকে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। জেনারেটর ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হয় তাদের। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বর্তমান সরকার আমলে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও কেন এমন লোডশেডিং।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, দেশে বিদ্যুতের খুব একটা ঘাটতি নেই। কিন্তু সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে আশুগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে সারাদেশে বিদ্যুতের সমস্যা দেখা দেয়।

তিনি কুষ্টিয়ার পরিস্থিতির কথা জানিয়ে বলেন, জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১১৫ মেগাওয়াট সেখানে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৬০ মেগাওয়াটেরও কম। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, সহসায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ আপাতত নেই।

বিশেষ করে শীতের আগে আমাদের পক্ষ থেকে সুখবর দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে সরকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে আগামীতে বিদ্যুৎ সেক্টরে বড় ধরনের সুখবর অপেক্ষা করছে বলেও তিনি জানান।

পল্লী অঞ্চলের অবস্থা আরও ভয়াবহ উল্লেখ করে প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, সেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ ঘণ্টাও থাকে না বিদ্যুৎ। ফলে ওই এলাকার মানুষের অবস্থা নাকাল হয়ে পড়েছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান মিথুন জানান, বিদ্যুৎ এখন যেন সোনার হরিণ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮-১০ ঘণ্টাও থাকছে না বিদ্যুৎ। ফলে স্বাভাবিক জীবন-যাপন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখাও ব্যাহত হচ্ছে।

সামনে জেএসএসি পরীক্ষা। পরীক্ষার ভালো প্রস্তুতিও তারা নিতে পারছে না। মোমবাতি কিংবা চার্জার লাইট একমাত্র ভরসা। কুষ্টিয়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম রেজোয়ানুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের বরাদ্দ কম থাকায় চাহিদানুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছি না।

তবে আগামী শীতের আগে এমন সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে হয় না। এদিকে, বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ের ফলে দেশের অন্যতম বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই এমন ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে উৎপাদন কমেছে প্রায় অর্ধেক।

ফ্রেশ অ্যাগ্রোফুডের মালিক ওমর ফারুক জানিয়েছেন, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ২০০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হতো সেখানে বর্তমানে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে উৎপাদন বাড়াতে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরব ৮ থেকে ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এই বাড়তি উৎপাদনের বোঝা চালের ওপর চাপানো হচ্ছে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে চালের দামও।

একই কথা জানিয়েছেন দেশ অ্যাগ্রোফুডের মালিক এমএ খালেক। তিনি বলেন, বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে বসে থেকেই। এতে চাল বিক্রি করে লাভের খাতা শূন্য।

কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান জানান, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দফতরে বহুবার কথা হয়েছে।

কিন্তু তাতে কোনো ফল আসেনি। ফলে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং। এসব কারণে চালের দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, দেশের সিংহভাগ মিনিকেট চাল রাজধানী ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ হয়ে থাকে। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে সীমাহীন লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবাও। জেলার ২২ লাখ মানুষের ভরসা কুষ্টিয়ার আড়াইশ শয্যার হাসপাতালে লোডশেডিং হলে বন্ধ থাকে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। জেনারেটর ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হয় তাদের।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন