রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০৩:২২:২৩ পিএম

ফরহাদ মজহারকে নিয়ে তসলিমার মন্তব্যে ফেসবুকে তোলপাড়!

সাহিত্য | বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০১৭ | ০১:১৩:১১ পিএম

কবি, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহারের বিষয় নিয়ে এবার কথা বললেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

বুধবার তসলিমা নাসরিনের নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে এ বিষয়ে যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো :

‘বেচারা ফরহাদ মজহার। নিজের তহবিল থেকে তিরিশ লাখ টাকা নেওয়ার অধিকার তাঁর নেই। তাই একটা বাজে ধরণের ‘অপহরণ নাটক’-এর মাধ্যমে সঙ্গিনীকে ধোঁকা দিয়ে টাকাটা নিতে চেয়েছিলেন। হিন্দুবিদ্বেষী আঁতেল তাঁর কন্যার অথবা প্রায় নাতনীর বয়সী এক হিন্দু মেয়ের সঙ্গে শুয়ে মেয়েটিকে প্রেগ্নেন্ট করেছেন। একবার নয়, বার বার। কতটুকু দায়িত্বহীনতার কাজ করেছেন তিনি ভাবা যায়! ভায়াগ্রা সেবন করতে পারেন, অথচ কন্ডম পরতে আপত্তি! গর্ভপাত করিয়ে মেয়েটি একবার মরতে বসেছিল। এবারও গর্ভপাত করার নির্দেশ দিয়েছেন ফরহাদ মজহার, তবে এবার নাকি ভালো ডাক্তার দিয়ে করিয়ে দেবেন।’

তসলিমা নাসরিন আরো লিখেছেন, ‘ফরহাদ মজহার, যিনি নারীর কর্তৃত্ব নারীকেই নিতে বলতেন কবিতায়, বাস্তবে তিনি নারীর কর্তা সেজে বসে থাকেন, নারীকে নিতান্তই ভোগ্যপণ্য বানান। এই দ্বিচারিতা, এই হঠকারিতা, এই নারীবিরোধিতা আমাদের সমাজের প্রায় প্রতিটি প্রখ্যাত পুরুষের চরিত্রে।’

নির্বাসিত লেখিকা লিখেছেন, “কেউ কি জানতো আমাদের ইসলাম-প্রেমী কবি গোপনে গোপনে রক্ষিতা পোষেন! নাট্যকার হিসেবে তিনি এত কাঁচা যে এ যাত্রা ধরা পড়ে গেছেন। কিন্তু আমার বিশ্বাস তিনি পার পেয়ে যাবেন শীঘ্রই। যত হোক পুরুষ তো! পুরুষরা তো একটু আধটু ‘এসব’ করতেই পারেন! সর্বনাশ হতো যদি মানুষটি পুরুষ না হয়ে নারী হতেন।”

উল্লেখ্য, কবি, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার ৩ জুলাই ভোর ৫টায় শ্যামলীর নিজ বাসা থেকে বের হন। ১৮ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগর থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে একটি বাস থেকে নামিয়ে আনে।

ফরহাদ মজহার জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। তাকে একটি মাইক্রোবাসে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যান।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশ সদর দফতরের সমন্বয়ে ফরহাদ মজহারের কথিত অপহরণের ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এ তদন্তে।

তদন্তে সনাক্ত করা হয় এক নারীর মোবাইল ফোন। এ ফোনের সঙ্গে ফরহাদ মজহারের হয়েছে কথাবার্তা। এ মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে খোঁজ পান তদন্তকারী কর্মকর্তারা এক নারীর। ঐ নারী হলেন ফরহাদ মজাহারের ‘উবিনীগ’ নামের এনজিও’র সাবেক কর্মী। তার নাম অর্চনা রানী (২৮)। তিনি সহজ সরল এক নারী। বাঁচার তাগিদে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েছেন। ২০০৫ সালে উবিনীগ নামক এনজিওতে চাকরি নেন তিনি। অর্চনা রানী ভাবছেন এই বুঝি তার এক ঠাঁই হলো। কিন্তু কাজের ফাঁকে ফরহাদ মজহারের সঙ্গে তার হয়ে উঠে ঘনিষ্টতা। প্রথম লালন ফকিরের আদর্শে ফরহাদ মজহারকে গুরু মেনে ফকিরী বায়াত নেন। এর থেকে শুরু হয় তাদের ঘনিষ্ঠতা। পরবর্তীতে মন দেয়া-নেয়া এবং দৈহিক সম্পর্ক।

তদন্ত কর্মকর্তাদের অর্চনা রানী বলেন, তিনি ফরহাদ মজহারকে মনপ্রাণে ভালবাসেন ও ভক্তি করেন। প্রায়ই অর্চনা রানীর বাসায় যাতায়াত এবং দৈহিক মেলামেশা করতেন ফরহাদ মজহার।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন