শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ০২:৪২:২৮ পিএম

ঢাকার আদাবর থানায় ফরহাদ মজহার, নেয়া হচ্ছে ডিবি কার্যালয়ে

সাহিত্য | মঙ্গলবার, ৪ জুলাই ২০১৭ | ১১:২৪:২৪ এএম

বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি, কলামিস্ট ও গবেষক ফরহাদ মজহারকে যশোরের নওয়াপাড়া থেকে উদ্ধারের পর রাজধানীর আদাবর থানায় আনা হয়েছে। আজ(মঙ্গলবার) সকাল ৯টার দিকে তাকে যশোর থেকে আদাবর থানায় আনা হয়। কবিকে আদাবর থেকে রাজধানীর ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

আদাবর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুজিত কুমার সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একটি দল ফরহাদ মজহারকে ঢাকায় নিয়ে আসে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফরহাদ মজহারকে ঢাকার আদাবর থানায় আনার পর তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেছেন। ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফরহাদ মজহারকে পরিবারের কাছে দেয়া হবে বলে পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে।

ফরিদা আখতার বলেন, ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করায় আমরা খুশি। তাঁর উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইলে সব সম্ভব। তবে বাসায় না ফেরা পর্যন্ত উৎকণ্ঠায় আছি।

এর আগে নিখোঁজের ১৯ ঘণ্টা পর সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরেরে নওয়াপাড়া বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের সামনে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে র‌্যাব। বাসটি খুলনা থেকে ছেড়ে আসে।

পরে তাকে স্থানীয় অভয়নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই কড়া প্রহরায় তাকে পার্শ্ববর্তী ফুলতলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আজ আনা হয় ঢাকা আদাবর থানায়।

এ বিষয়ে খুলনার ফুলতলায় সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ব্রিফিং করেন র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অ্যাপারেন্টলি যেটা মনে হয়, ওই এলাকায় তাঁর বিচরণ ছিল। টেকনোলজি মিথ্যা কথা বলে না। নিউমার্কেটে গ্রিল হাউসে তিনি নাশতা করেছেন, এ তথ্যটা আমরা কনফার্ম (নিশ্চিত) করলাম গ্রিল হাউসের মালিকের কাছ থেকে। তখনই আমাদের মাথায় এলো, তাহলে এই ব্যক্তি হয়তো ঢাকাগামী কোনো বাসে যেতে পারেন।’

‘তখন আমাদের একজনকে পাঠানো হলো। সে কাউন্টারে গিয়ে ভেরিফাই (যাচাই) করে। কাউন্টারের লোকেরা ছবি দেখে শনাক্ত করল যে, এ রকম একজন লোক আমাদের গাড়িতে উঠে গেছে, সেটা হানিফ পরিবহন। তখনই আমরা ফলো করে নোয়াপাড়া থেকে র‍্যাব ও পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করি।’

উল্লেখ্য, ফরহাদ মজহারের পরিবারের দাবি, ঢাকার শ্যামলীর নিজের বাসা থেকে সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে একটা ফোন

পেয়ে বের হয়ে যান ফরহাদ মজহার। এরপর তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে একাধিকবার ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা

হয়। এরপরই ফরহাদর মজহারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে তার পরিবার আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে।

এদিকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের পর (সোমবার) রাত ১টার দিকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, তিনি ঢাকা থেকে স্বেচ্ছায় খুলনায় ভ্রমণ করেন। দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসসহ তার সঙ্গে ব্যাগপত্র ছিল। তবে এখনই এ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। তাকে ঢাকায় এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, অপহরণ নাটক সাজানো হয়েছিল বলে মনে হয়।

তবে পুলিশের এ দাবি নাকচ করে ফরহাদ মজহারের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ‘বাসার সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে তারা দেখেছেন, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার হাতে কোনো ধরনের ব্যাগপত্র ছিল না।’ পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, উদ্ধারের পর ফরহাদ মজহার পরিবারকে জানিয়েছেন- ‘সন্ধ্যার পর তার চোখের বাঁধন খোলা হয়’।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন