সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ ০৪:৪১:১৩ পিএম

চিকনগুনিয়া জ্বরে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা

স্বাস্থ্য | রবিবার, ২৮ মে ২০১৭ | ১১:৫৩:২০ এএম

ডা. মো. জাকির হোসেন
বেশ কিছু বছর ধরে আমাদের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের আতঙ্ক রয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে মশাবাহিত জ্বর চিকনগুনিয়া আমাদের সবাইকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। চিকনগুনিয়া একটি ভাইরাস জ্বর। চিকনগুনিয়া নামক আলফা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকনগুনিয়া জ্বর হয়। আফ্রিকা এশিয়াসহ প্রায় পঞ্চাশটি দেশে এই জ্বরের দেখা পাওয়া গেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ঢাকা শহর ও পার্শ্ববর্তী সাভারে ইতোমধ্যে কিছু মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এই জ্বরে কোনো মৃত্যুভয় নেই। তাই ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এ জ্বরে হাড়ের জয়েন্টগুলো ফুলে বাঁকা হয়ে যাওয়ার কারণে এই নামকরণ করা হয়। ১৯৫২ সাল আফ্রিকার মেকন্দ, মোজাম্বিক ও তানজিনিয়ায় এই রোগ মহামারী আকার ধারণ করে।

চিকনগুনিয়া কী

হঠাৎ করে উচ্চমাত্রা জ্বর (১০৩è-১০৪è ফারেনহাইট) অস্থি সন্ধিতে ব্যথা, বমি, অবসাদ মাথা ব্যথা ইত্যাদি চিকনগুনিয়া জ্বরের প্রধান লক্ষণ। এই রোগের প্রধান কারণ মশার কামড়।
চিকনগুনিয়া জ্বরের ভাইরাস একটি আলাদা ভাইরাস গোত্র টোগাভাইরাস ডেঙ্গুর বাহক Adese Aegypti (এডিস ইজিপটি) মশাই চিকনগুনিয়ার জ্বরের ভাইরাসের বাহক, অন্যান্য মশার কামড়েও এ রোগের বিস্তার হতে পারে তবে তা সীমিত আকারে, দিনের বেলায় সাধারণত এই মশা আক্রমণ করে থাকে।

যেভাবে রোগী চিকনগুনিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়’ সাধারণত দুই ধরনের স্ত্রী মশা দ্বারা চিকনগুনিয়া রোগ মানুষের শরীরে আক্রান্ত হয়। যথা এডিস ইজিপটি ও এডিস এল বোপিক্টাস।
চিকনগুনিয়া ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিকে যদি অন্য কোন মশা কামড়ায়, তবে সেই মশাটির শরীরে চিকনগুনিয়া ভাইরাস প্রবেশ করবে, এবার সেই মশাটি যদি অন্য কোনো ব্যক্তিকে কামড়ায় তবে ওই ব্যক্তিও চিকনগুনিয়া ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবে। আর এভাবেই চিকনগুনিয়া একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে।

চিকনগুনিয়া রোগের লক্ষণসমূহ

* প্রচণ্ড জ্বর ১০১è-১০৪è
* প্রত্যেক জয়েন্টে প্রচণ্ড ব্যথাসহ হাড়গুলো বেঁকে যায়।
* হাঁটু ও পায়ের পাতায় অসহ্য ব্যথা যার কারণে রোগীর স্বাভাবিক হাঁটা চলা ব্যাহত হয়।
* চর্মে লাল লাল র‌্যাশ দেখা যায় যা প্রথমে খুব চুলকায়
* পিঠে ও মেরুদণ্ডে ব্যথা
* মাথা ও চোখে ব্যথা
* বমি ও ডায়রিয়া হওয়া
* মুখে ঘা হওয়া
* প্রস্রাব কমে যাওয়া
* শরীরে যে কোনো দ্বার দিয়ে রক্তপাত হতে পারে।

চিকিৎসা

এলোপ্যাথিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিধানে চিকনগুনিয়ার দ্রুত আরোগ্য সম্ভব। এলোপ্যাথিক মতে, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেয়ে জ্বর নিয়ন্ত্রণ রাখা যেতে পারে, বাণিজ্যিকভাবে চিকনগুনিয়ার কোনো প্রতিষেধক টিকা নেই। অ্যাসপিরিন, নন স্টেরিওডাল কিংবা এন্টি ইমফ্লামেটরি ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। কারণ যদি ডেঙ্গু হয়ে থাকে তাহলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে লক্ষণ ভেদে হোমিওপ্যাথিক বিধানে নিম্ন লিখিত ওষুধগুলো চিকনগুনিয়া চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে যেমন-ব্রায়োনিয়া, রাসটক্স, বেলাডোনা, একোনাইট, পাইরোজেন, ফেরামফস, ইউপেট্রিয়াম পারম্প। তবে উভয় পদ্ধতির চিকিৎসার ক্ষেত্রে একজন ভালো রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
সাধারণ ব্যবস্থাপনা

* পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে, হাঁটা-চলা একেবারেই নিষেধ
* প্রচুর পরিমাণ পানি খেতে হবে, যেমন-ডাবের পানি, স্যালাইন, শরবত, না হলে শরীর পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে।
* গিরায় ব্যথা হলে বরফ লাগাতে হবে, গরম পানি দেয়া যাবে না।
হাসপাতালে কখন যাবেন
* রক্তচাপ যদি খুব বেশি কমে যায়।
* ব্লিডিং হলে
* প্রস্রাব কমে গেলে (দিনে ৫০০ মি. লি. এর কম)
* ওষুধে গিরার ব্যথা না কমলে (তিন দিনের মধ্যে)
* অজ্ঞান হয়ে গেলে
* রোগী বৃদ্ধ, শিশু, গর্ভবতী অথবা কিডনি বা হৃদযন্ত্রের সমস্যা থাকলে।
প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ
* চিকনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীকে সব সময় মশারির ভেতরে রাখতে হবে যাতে নতুন কোনো মশা তাকে কামড়াতে না পারে।
* মশার প্রজনন স্থল ধ্বংস করতে হবে। খালি পাত্র, ফুলের টব, গাছে তৈরি হওয়া কোনো গর্ত অথবা এসির পানি জমতে দেয়া যাবে না।
* ঘরে মশানাশক ব্যবহার করতে হবে।
* এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলা ঘুমালে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।

লেখক: চিফ কনসালটেন্ট, জারিফ হোমিও হল, মেরুল বাড্ডা।
ফোন: ০১৭১৭-৮৩৪২১০
E-mail: [email protected]

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন