রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০ ১১:২৬:২৪ পিএম

বিকালে লেবু সিদ্ধ করে, পরেরদিন সকালে সেই পানি খেলে কি হয়? জেনে নিন

বিউটি টিপস | ঢাকা | শনিবার, ৮ এপ্রিল ২০১৭ | ০১:০৮:৩৩ পিএম

লেবু পানির উপকারিতা , শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরেই লেবুর উপকারি গুণাগুণ
মানুষের জানা। এর মাঝে একটা প্রধান উপকারিতা হলো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস
ইত্যাদির তৈরি করা রোগ বালাই দূরীকরণ এবং শরীরের সার্বিক রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বৃদ্ধি। আরেকটা হলো হজম শক্তি বাড়ানো এবং যকৃৎ পরিষ্কারের মাধ্যমে
ওজন কমানোর ক্ষমতা।

লেবুতে সাইট্রিক এসিড এর পাশাপাশি আরো রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম,
বায়োফ্লাভোনোয়েড, পেক্টিন এবং লিমোনিন। এই সবগুলো পদার্থের প্রভাবেই আমাদের
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং রোগের সাথে শরীর যুদ্ধ করার শক্তি পায়।
প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে এসব
উপকার সর্বাধিক মাত্রায় পাবে আপনার শরীর। গরম পানি কেন? কারণ ঠাণ্ডা পানির
চাইতে গরম পানি শরীরে শোষিত হয় অনেক দ্রুত এবং এর থেকে তত বেশি উপকৃত হবেন
আপনি। রাতে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেকটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে
পারেন। আর সকালে উঠে অন্য যে কোনও কাজ করার আগেই এটা পান করবেন। তাহলেই
পাবেন এর অসাধারণ সব উপকারিতা। তবে আজ জেনে নেই লেবুর অসাধারণ সব উপকারিতার
কথা।

হজমে সহায়ক : শরীর থেকে অযাচিত পদার্থ এবং টক্সিন বের করে দেয় লেবুর রস।
আমাদের হজমের জন্য ব্যবহৃত লালা এবং পাচক রসের সাথে বেশ মিল আছে এর গঠন এবং
কাজের। আর যকৃতের থেকে হজমে সহায়ক এক ধরণের পদার্থ নিঃসরণেও এটি সহায়তা
করে।

ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করে : শরীরে মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং এর
মাধ্যমে খুব দ্রুত ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
এছাড়া মূত্রনালির স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও এটি সহায়ক।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় : লেবুতে থাকে অনেকটা ভিটামিন সি এবং লৌহ যা
ঠাণ্ডাজ্বর জাতীয় রোগের বিরুদ্ধে ভীষণ কার্যকর। এতে আরো রয়েছে পটাসিয়াম যা
মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুকে সক্রিয় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এতে
থাকা অ্যাসকরবিক এসিড প্রদাহ দূর করে এবং অ্যাজমা বা এজাতীয় শ্বাসকষ্টের
সমস্যা কমায়। এছাড়াও লেবু কফ কমাতে সাহায্য করে।

শরীরের পিএইচ মাত্রা ঠিক রাখে: এর অর্থ হলো শরীরের অম্ল-ক্ষারকের মাত্রা
ঠিক রাখে লেবু। লেবু হজম হয়ে যাবার পর কিন্তু আর অম্লীয় থাকে না, ক্ষারীয়
হয়ে যায়। ফলে এটি রক্তে মিশে যায় এবং শরীরের অম্লতা বাড়তে দেয় না। অম্লতা
বেড়ে গেলেই দেখা দেয় রোগ।

ত্বক পরিষ্কার করে : ত্বকের কুঞ্চন এবং দাগ দূর করে লেবুতে থাকা বিভিন্ন
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের জন্য খুব দরকারি হল ভিটামিন
সি। ব্রণ বা অ্যাকনি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া এটি দূর করে। আর ত্বকের
তারুণ্য ধরে রাখতেও এটি কার্যকরী।

আপনার মন ভালো করে দেয় : সকালেই প্রাণচাঞ্চল্য বাড়িয়ে দিতে এর জুড়ি নেই।
খাবার থেকে শক্তি শোষণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় লেবু। আর এর গন্ধে আপনার মন
ফুরফুরে হয়ে উঠবে নিমিষেই। দুশ্চিন্তা এবং বিষণ্ণতা দূরীকরণেও এটি
অসামান্য।

সেরে ওঠার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে : ক্ষতস্থান সেরে তুলতে সাহায্য করে
অ্যাসকরবিক এসিড। আর হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও এটি সহায়ক। স্ট্রেস এবং
যে কোনও ধরণের ব্যথার উপশম করে ভিটামিন সি।

নিঃশ্বাসে আনে তরতাজা ভাব : নিঃশ্বাসে লেবুর সতেজতা আনা ছাড়াও, এভাবে গরম
পানির সাথে লেবুর রস পানে দাঁতের ব্যথা এবং জিঞ্জিভাইটিসের উপশম হয়। তবে
এটা পানের পর পরই দাঁত ব্রাশ করবেন না কারণ সাইট্রিক এসিড দাঁতের এনামেল
ক্ষয় করে ফেলে। আগে দাঁত ব্রাশ করে তার পর এটা পান করা ভালো। আর লেবুপানি
পান করার পর বিশুদ্ধ পানি খেতে পারেন এক গ্লাস।

শরীরে তরলের পরিমাণ ঠিক রাখে : রাতে ঘুমানোর সময়ে যে পানি খরচ হয় সেটা পূরণ হয়ে যায় সকাল সকাল এই এক গ্লাস পানি পানের মাধ্যমে।

ওজন কমাতে সহায়ক : লেবুতে প্রচুর পরিমাণে পেক্টিন থাকে। আঁশজাতীয় এই পদার্থ
ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ওজন কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের খাবারে
এমন অম্লজাতীয় খাবার কম থাকে তাদের ওজন বাড়ে বেশি।

ত্বকের দাগ নিয়ে ভাবনাঃ  দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘড়ি, চশমা, ব্রেসলেট, টুপি প্রভৃতি
পরে থাকলে সেখানে একধরনের দাগ পড়তে পারে। সাধারণত সূর্যের রশ্মি সরাসরি পড়ে
এমন স্থানে কাজ করলে শরীরের ঢাকা অংশ বাইরের অংশ থেকে কিছুটা সাদা দেখায়।
ফলে এটি শরীরের অন্য অংশ থেকে আলাদা দেখায়। অনেক সময় এটি নিয়ে অন্যের সামনে
বিব্রত হতে হয়। এ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সূর্যের রশ্মি সরাসরি পড়ে, এমন
স্থানে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ অবস্থায় সেই স্থানকে আগের অবস্থায়
ফিরিয়ে আনতে হলে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। প্রথমত, বাইরে থেকে ঘরে
ফিরে কুসুম গরম পানিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট গামছা ভিজিয়ে রেখে আক্রান্ত স্থানে
১০ মিনিট ধরে রাখতে হবে। তারপর স্বাভাবিক পানি দিয়ে সে স্থানটি ধুয়ে ফেলতে
হবে। এরপর রাতে ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে সেখানে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগাতে
হবে। ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগাতে না চাইলে একটুখানি গ্লিসারিন এবং সমপরিমাণ
পানি সে স্থানে লাগানো যেতে পরে। পরদিন সে জায়গাটি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
এভাবে এক দিন পর পর এ নিয়ম মেনে চললে বেশ উপকার পাওয়া যাবে।

টিপস ………

* বেশী করে জল খান৷ বিভিন্ন ভেষজ পদার্থ ত্বকে লাগান৷ ফলের রস
খাওয়ার সঙ্গে মুখেও খানিকটা মেখে নিন৷ এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে৷ এছাড়া মুখে
গোলাপ জল লাগান৷
* এক গ্লাস জলের মধ্যে বরফ দিয়ে ওর মধ্যে মধু, লেবু এবং
পুদিনা পাতা দিন৷ সেই জলটা পান করুন৷ এতে চমক বাড়বে৷
* তরমুজের রসের মধ্যে
বরফ এবং গোলাপ জল মিশিয়ে খান৷
* দিনে কম পক্ষে 8-10 গ্লাস জল খান৷ শীতের
শুরুতে ত্বকের যত্ন  শরতের শেষেই এবার শীতের আগমনী বার্তা চলে এসেছে। সেই
সাথে শুরু হয়েছে ত্বকের নানাবিধ সমস্যা। তাই এখন থেকেই শুরু হোক ত্বকের
বাড়তি যত্ন। এতে শীতের শুষ্কতা কমিয়ে ত্বককে করবে মসৃন এবং
স্বাস্থ্যজ্জ্বল।

ত্বককে ময়শ্চারাইজ করুন: শীতে ত্বকের যত্নের শুরুতে একটি ভালো ময়শ্চারাইজার
বেছে নিন। বাজার থেকে বাদাম তেল বা এভাকাডো সম্বৃদ্ধ ময়শ্চারাইজার কিনুন।
এগুলো ত্বকের স্বাভাবিক আদ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যতবার ত্বক শুষ্ক
মনে হবে ততবার ব্যবহার করুন।

সানস্ক্রিন ব্যবহার: শীত আসছে বলে ভাববেন না যে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার
প্রয়োজনীতা কমে গেছে। শীতকালেও বাইরে বের হওয়ার ৩০ ‍মিনিট আগে এসপিএফ ১৫-৩০
সম্পন্ন সানস্ক্রিন ব্যবহার করূন।

আদ্রতা বজায় রাখুন: শীতকালে ত্বকের আদ্রতা বজায় মাঝে মাঝে মুখে পানির ঝাপটা দিন। সহজে ত্বক শুষ্ক হবে না।

অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন: গোসলের সময় আরাম অনূভব হলেও
অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে মুখ, মাথা ধোয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন
বিশেষজ্ঞরা। কারণ, অতিরিক্ত গরম পানি মুখের ত্বকের ফলিকলগুলোকে
ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে যা ত্বককে আদ্র রাখতে সাহায্য করে। গোসলের সময় পানিতে
কয়েক ফোটা জোজোবা বা বাদাম তেল দিয়ে নিলে তা ত্বককে আদ্র এবং মসৃন করতে
সহায়তা করে।

ভেজা ত্বকে পরিচর্যা করুন: গোসলের পর এবং প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর ভেজা
‍অবস্থায় ময়শ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের আদ্রতা বজায়
থাকবে। ঠোঁটের পরিচর্যা: কখনোই ‍জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো উচিৎ নয়। কয়েক ফোঁটা
অলিভ অয়েল মধুর সাথে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগালে ঠোঁট কখনোই ফেটে যাবে না।

মেকআপ করার সময়: মেকআপ করার সময় লিকুইড ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। শীতকালে ক্রিম ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।

চুলের যত্ন: শীতকালে কখনোই ভেজা চুলে বাইরে বের হওয়া উচিৎ নয়। এতে করে চুলের আদ্রতা নষ্ট হয় এবং চুল ভেঙে যায়

হ্যাট পরুন: চুল এবং মাথার তালুর আদ্রতা ধরে রাখতে হ্যাট পরুন। তবে হ্যাটটি যাতে বেশি টাইট না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।

হাত ও পায়ের যত্ন: হাত এবং পায়ের আদ্রতা ধরে রাখতে যতবার প্রয়োজন ততবার লোশন বা ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন