বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ ১০:৩৮:৩২ এএম

সংসারের বোঝা মাথায় নিয়ে রিকশা চালাচ্ছে ১২ বছরের মাদ্রাসা ছাত্র নাহিদ

তৌহিদ জামান | জেলার খবর | যশোর | শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ | ১১:৫৩:৫১ এএম

দুর্ঘটনায় বাবা পঙ্গু, মা কাজ করেন একটি মিলে দিনমজুর হিসেবে। বাবার চিকিৎসা আর সংসারের বোঝা মাথায় চেপেছে ১২ বছর বয়সী নাহিদ হাসান মেহেদির ওপর। তাই, এই বয়সে রিকশা চালিয়ে সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হয়েছে সে।

নাহিদ যশোর শহরতলী ঝুমঝুমপুর বাবলাতলা পশ্চিমপাড়া এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে। তার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সিপাহী আজিজুল হক। তারা ওই এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকে।

নাহিদ কেবল রিকশা চালায় না; লেখাপড়াও করে। সে বালিয়াডাঙ্গা এবতেদায়ী মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

নাহিদ জানায়, সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত সে ক্লাস করে। এরপর বাড়ি থেকে রিকশাটি নিয়ে বের হয়।

এই বয়সে কেন রিকশা চালায়- জানতে চাইলে সে জানায়, পরিবারের অন্য সদস্যদের আয়ে কোনও মতে সংসার চলে। তাছাড়া বাবা পঙ্গু; তার চিকিৎসার খরচও তো রয়েছে।

নাহিদের দাদাবাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খলসি গ্রামে। তারা তিন ভাই। বড় ভাই ফয়সাল- ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ করে। মেঝ ভাই সাজ্জাদ, মাঝেমধ্যে সেও রিকশা চালায়। নাহিদ সবার ছোট।

নাহিদের মায়ের নাম জেসমিন বেগম। তিনি বিসিক শিল্প এলাকায় একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে দিন হাজিরা হিসেবে কাজ করেন। কাজ হলে ১৩০ টাকা মজুরি পান।

নাহিদের বাবা আব্দুল খালেক জানান, ৭-৮ বছর আগে ঘোড়ারগাড়ি থেকে পড়ে আহত হন তিনি। এরপর আবার নসিমন থেকে পড়ে মেরুদণ্ডে আঘাত পান। সেকারণে তার হাত-পা মাঝে মধ্যে অবশ হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি স্থানীয় সমিতি থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ইঞ্জিনচালিত একটি রিকশা কিনেছেন। এ খাতে প্রতিদিন তাকে দুইশ’ টাকা হারে কিস্তি শোধ করতে হয়। শারীরিক অবস্থা খুব বেশি ভাল না হওয়ায় নিয়মিত রিকশা চালাতে পারেন না। তখন ছোট ছেলে নাহিদ রিকশা চালায়।

আব্দুল খালেক জানান, চিকিৎসার জন্য এ যাবৎ প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখনও প্রতি মাসে ওষুধের একটা বড় খরচ বহন করতে হয়। ঘরভাড়া দিতে হয় ১২শ’ টাকা। বাজারে তার দেনা প্রায় দেড় লাখ টাকা। গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রি করেছেন; বাকি জমি বন্ধক রেখে চিকিৎসা করেছেন।

প্রতিবেশী রুস্তম আলী বলেন, ‘ছেলেটা এই এতটুকু বয়সে রিকশা চালায়, দেখতে খারাপও লাগে।’

বালিয়াডাঙ্গা এবতেদায়ী মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আসমা খাতুন বলেন, ‘ছেলেটি এবার ভর্তি হয়েছে। মাদ্রাসা থেকে বিনামূল্যের বই দেওয়া হয়েছে। ছাত্র ভালই, তাছাড়া শান্তশিষ্টও।’

শুনেছি ক্লাস শেষে মাঝেমধ্যে সে রিকশাও চালায়- যোগ করেন তিনি।

তথ্যসূত্র-বাংলা ট্রিবিউন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন