সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ ০৪:১১:১৪ পিএম

শেরপুরে স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় প্রকৌশলীর কারাদণ্ড

জাহিদুল খান সৌরভ, স্টাফ করেসপন্ডেট | জেলার খবর | শেরপুর | বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৬ | ০৪:২০:৩৮ পিএম

শেরপুরে যৌতুকের দাবিতে শিক্ষার্থী স্ত্রীকে মারপিটের মামলায় সাঁজা মাথায় নিয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে শেরপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) রাশেদুজ্জামান রতনকে (৩০)। 

পলাতক অবস্থায় সাজার ৩ মাস পর ২৯ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন জানালে ভারপ্রাপ্ত বিচারক কিরণ শংকর হালদার উভয় পক্ষের শুনানী শেষে তা নাকচ করে তাকে সাজা পরোয়ানামূলে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার আসামীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট জয়নাল আবেদীন আপেল জানান, রতনের সাজার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আদালত সূত্র জানায়, শেরপুর সদর উপজেলার ডোবারচর গ্রামের মৃত আবু তালেব মিয়ার পুত্র ও শেরপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) রাশেদুজ্জামান রতন ২০১২ সালের ২৯ জুন বিয়ে করেন শহরের কসবা মোল্লাপাড়া মহল্লার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমান বেলুনের কন্যা ও শেরপুর সরকারি কলেজের অনার্স (দর্শন) শিক্ষার্থী উম্মে তানজিলা বৃষ্টিকে (২০)। 

কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বৃষ্টির উপর নানাভাবে নির্যাতন শুরু হয়। এক পর্যায়ে ২০১৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দাবি করা ৫ লাখ টাকার যৌতুক আদায়ে ব্যর্থ হয়ে বৃষ্টির উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় প্রকৌশলী রতন। ওই ঘটনায় একই বছরের ১৮ মে রতনসহ ৫ জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন বৃষ্টি। 

পরে তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের আলোকে ওই বছরের ৩১ আগস্ট রতনের বিরুদ্ধে কগনিজেন্স গ্রহণ এবং ২০১৫ সালের ১০ মার্চ অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। বাদীসহ ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের ২৪ আগস্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রতনকে সংশ্লিষ্ট আইনের ১১ (গ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এক বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ২ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য, কগনিজেন্স গ্রহণের পর হাজির হয়ে জামিন পেলেও বিচারের এক পর্যায়ে অনুপস্থিত থাকায় রতনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ হয় এবং তার অনুপস্থিতিতেই ওই সাজা হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন