মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ ০৪:৩৩:২৮ এএম

শিক্ষা তার টাকা আছে যার!

উপসম্পাদক | সোমবার, ২১ নভেম্বর ২০১৬ | ০৭:২৬:০৪ পিএম

মানুষের কিছু মৌলিক চাহিদা আছে সেগুলো হচ্ছে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসা । শুধু বইয়ের পাতায় নয় রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোতেও এই কথা গুলো খূব স্পষ্ট ভাবে লিপিবদ্ধ করা আছে। এবং বাংলাদেশের সরকার প্রতিটি জনগণকে এই সুবিধা দিতে বাধ্য। বাংলাদেশে ১৭ কোটির উপরে জনসংখ্যার বসবাস। বাংলাদেশের হেলথ পলিসির উইকীপীডীয়ার পাতায় দেখা যায় ৭৭% জনসংখ্যা গ্রামে বসবাস করে,৬০% জনসংখ্যা দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে।

শিক্ষার উপরে কিছু তথ্য এবং মানুষের কিছু চাহিদার কথা তূলে ধরার চেষ্টা করছি। জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১০ বিষয়ক এক সেমিনারে চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক কবির চৌধুরী এবং ডঃ খালিকুজজামান আহমেদ ছিলেন কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্বে। 

শিক্ষা বিষয়ক এই পলিসি তৈরি করতে মোট ১৮ জন সদস্য কাজ করেছিলেন। ২০১০ এর জাতীয় শিক্ষার লক্ষ্যকে সামনে রেখে আরও নতুন ৩০ টি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চিন্তা করা হয় তার মধ্যে ঊল্লেখ যোগ্য সবার জন্য শিক্ষা ও সর্বস্তরের জন্য শিক্ষা,ভোকেশনাল শিক্ষা,আই সি টি বিষয়ক শিক্ষা, সবার জন্য একই কারিকুলাম ও সিলেবাস ভিত্তিক শিক্ষা প্রদান, স্পেশাল বাচ্চাদের জন্য শিক্ষা, পথ শিশুদের জন্য শিক্ষা এবং গরীব বাচ্চাদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা  এবং সবচেয়ে ঊল্লেখ যোগ্য হচ্ছে  ২৯ নম্বর পয়েণ্ট কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিতহবেনা। 

কিন্তু আজ মানুষ তার নৈতিকতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে সবখানে ব্যবসায়ী মনোভাব তৈরি করেছে এখানে কোন সরকার বা তার মন্ত্রীদের কে দোষারোপ করে কোন লাভ নেই অভাব হচ্ছে যখন কোন নীতি প্রণয়ন হয় সেটা মনিটরিং এর। এখণ শিক্ষা অনেকের কাছে পণ্য হয়ে গেছে তারা চিন্তা করে কিভাবে এই পণ্যের প্রসার করা যায় এবং তা থেকে বাণিজ্য করা যায়।  

এই লেখা পড়ার পর হয়তো অনেকের রোষানলের তলে আমাকে পরতে হবে কিন্তু আমি ঐ সকল ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন করতে চাই যখন আপনারা ২ টাকা মুল্যেরভর্তি ফরম ২০০ টাকায় বিক্রি করেন এবং একটি ছাত্র কে ভর্তি হতে গেলে বিভিন্ন মাধ্যম হতে  ১০,০০০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২৫,০০০ টাকা ডনেশন নিয়ে ভর্তি করেন কোথায় থাকে আপনাদের মানবতা ? বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার ভালো ভালো স্কুল গুলোতে ভর্তির সময় এলে চলে এই রমরমা ভর্তি বানিজ্য কিন্তুকেউ স্বীকার করবেনা কারন এই ব্যবসা চলে অন্তরালে যা আছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যাদের টাকা আছে তারা ঠিকই এই ডনেশন দিয়ে তাদের বাচ্চাকে ভর্তি করছেন দেশের ভালো ভালো স্কুল গুলোতে আর যাদের টাকা নাই তাদের ঐ সুন্দর ফুটফুটে মেধাবী বাচ্চা গুলো বঞ্চিত হচ্ছে উন্নত ও আধুনিক শিক্ষা হতে।
আমরা কথা বলে জেনেছি এক অভিবাবক এর সাথে সে  ঢাকা শহরের মিরপুরে নাম করা এক স্কুলে  বাচ্চার ভর্তি ফরম নিতে গিয়ে ওখানের আর এক অভিবাবক বলেন, কিভাবে বাচ্চাদের পড়াব বলেন? ১ম শ্রেণীতে লটারির মাধ্যমে টিকলেও নাকি ১০,০০০  টাকা ডনেশন দিতে হবে আর প্রতি বছর নাকি বেতন বৃদ্ধি পাবেই আরও কতকি খরচ আছে। সেই অভিবাবক এখন ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কিভাবে যোগাবেন এত টাকা কিভাবে একটা ভালো স্কুলে পড়াবেন তাঁর সন্তানকে। 

এম পি ও এবং নন এম পি ও ভুক্ত অনেক ভালো ভালো স্কুল আছে যারা তাদের ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১২০০ টাকা হতে শুরু করে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন ধার্য করে থাকেন আর প্রতি মাসেই বিভিন্ন চাঁদাতো আছেই। ভালো স্কুলে পড়াতে হবে বলে বাধ্য হয়েই অভিবাবকরা পূরণ করে যাচ্ছে স্কুল কমিটির এই দাবি। সরকার বেতন স্কেল বৃদ্ধি করার সাথে সাথে স্কুল কমিটির এই প্রবণতা আরও দিগুন হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার তো বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করছে তারপরেও কেন এই শিক্ষা বানিজ্য প্রবণতা? মনে রাখবেন 'আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ।' 

তাই নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি দয়া করে প্রতি বছর এই ভর্তি বানিজ্য থেকে অভিবাবকদের মুক্তি করুন। শিক্ষাকে দয়া করে কোন পণ্য হতে দিবেন না।সবার জন্য উন্নত ও আধুনিক শিক্ষাই সবার কাম্য।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন