রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১২:৩২:৪২ পিএম

এখনও খোঁজ মেলেনি সেই পাঁচ শিক্ষার্থীর!

জেলার খবর | নেত্রকোনা | রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৬ | ০৯:২০:৩১ এএম

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার  পাঁচ । নিখোঁজ হওয়া সেইপাঁচ কিশোর শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র। বাকি তিনজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র।পুলিশ ও নিখোঁজদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর,২০১৬  সকালে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে ওই পাঁচ শিক্ষার্থী তাড়াহুড়া করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তাদের একজনের সঙ্গে মোবাইল ফোন ছিল। পুলিশ সে ফোনটির সূত্র ধরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে বলে দাবি করলেও সেখানে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি।নিখোঁজ হওয়া ওই শিক্ষার্থীরা হচ্ছে, পূর্বধলার শ্যামগঞ্জ বাজারসংলগ্ন মহিষবেড় গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে আরিফ (১৪), ফরিদ মিয়ার ছেলে বেলাল হোসেন (১৫), হেলাল উদ্দিনের ছেলে নয়ন মিয়া (১৪), আইনুদ্দিনের ছেলে মো. হৃদয় (১৩) ও হামেদ আলীর ছেলে রকিবুল ইসলাম (১৩)। এদের মধ্যে আরিফের বাবা মাছ বিক্রেতা, হৃদয়ের বাবা কাঠমিস্ত্রি, রকিবুলের বাবা তরকারি বিক্রেতা, বেলালের বাবা দিনমজুর ও নয়নের বাবা হেলাল দরিদ্র কৃষক। বেলাল শ্যামগঞ্জের শালদিঘা তালি-ই-মাটি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে এবং নয়ন একই প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আর অপর তিনজন শ্যামগঞ্জের জালশুকা-কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।বেলালের মা ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘ওই দিন সকালে মাদ্রাসার পরীক্ষার কথা বলে ছেলে আমার কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে যায়। পরে জানলাম সে মাদ্রাসায় যায় নাই। জানি না, সে এখন কোথায় কি অবস্থায় আছে।’ নয়নের মা জালেমা খাতুন বলেন, ‘নয়ন সকাল বেলা আমারে বলে আম্মা, তাড়াতাড়ি ভাত দেও। তাড়াহুড়া করে ভাত খাইয়া ব্যাগ লইয়া বাইর হইয়া যায়।’ আরিফের নানি জুলেখা বেগম বলেন, ‘জানি না আমার নাতিসহ নিখোঁজ হওয়া ওই চারজনের ভাগ্যে কি-আছে। এরা কোন চক্রের পাল্লায় পড়েছে।’এ ঘটনায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ৫ অক্টোবর নিখোঁজের অভিভাবকেরা পূর্বধলা থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ওই শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ হওয়ার দিন সকালে শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ময়মনসিংহগামী একটি লোকাল ট্রেনে উঠেছিল। বেলালের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তাদের অবস্থানের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেলেও পরে সেখানে গেলে তাদের পাওয়া যায়নি।পূর্বধলা থানার বর্তমান ওসি অভিরঞ্জন দেব বলেন, ‘তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তাদের সঙ্গে কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা কিংবা অপহরণের শিকার হওয়ার তথ্য এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই।   

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন