বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ ১১:৪৩:৪৫ এএম

ডিমলায়-১০টাকা কেজির উন্নত চাল বদলে দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরন! দুই গোডাউন সিলগালা

মহিনুল ইসলাম সুজন | জেলার খবর | নীলফামারী | শনিবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৬ | ০৫:৪৯:১২ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির দশ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রির জন্য নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সরকারী খাদ্য গুদাম হতে সরবরাহকৃত উন্নত মানের চাল উত্তোলনের পর তা পরিবর্তন করে নিন্মমানের চাল বিক্রির সময় দুইডিলারের চাল বিক্রয় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই ডিলারদের গুদাম সিলগালা করেছে প্রশাসন।পরে অবশ্য জানা গেছে,উক্ত অনিয়মকারী দুই ডিলারের প্রত্যেককেই ৫০,০০০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নে।

কার্ড ধারীরা জানায়,গত সেপ্টেম্বর জুড়ে এই সুবিধা দেশব্যাপী শুরু হলেও তারা উপজেলা সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারনেই উক্ত মাসে এই চাল এক ছটাকও পাননি। চলতি অক্টোবর মাসের কার্ডের ১০ টাকা কেজি দরের চাল দেয়া হচ্চিল।আর ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের (ইউনিয়ন ফেয়ার প্রাইজ ) শুক্রবার সকাল হতে প্রথম বিক্রি করা হচ্ছিল দুই ডিলারের ৫৪৪ জন করে মোট ১০৮৮ জনের মাঝে। 


ওই ইউনিয়নের চাঁপানীহাট বাজারে ডিলার ছামিনুর রহমান ও চাপানীহাট চত্বরে- আতাউর রহমান সরকারী উন্নত মানের চাল অন্যত্রে সরিয়ে পচা দুর্গন্ধযুক্ত  চাল কাডধারীদের মাঝে বিক্রি করছিল। এর মধ্যে ডিলার ছামিনুর রহমানের ৫৪৪ জন কাডধারীর ৩৩৬ বস্তার মধ্যে ৭৮বস্তা, ও আতাউর রহমান ৫৪৪ জন কাডধারীর ৩৩৬ বস্তার মধ্যে ৯৫বস্তা পচা দুগর্ন্ধ চাল জোড়পূর্বক কার্ডধারীদের কাছে বিক্রি করে। 

এ ঘটনায় কাডধারীরা প্রতিবাদী হয়ে উঠলে চাঁপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বিষয়টি ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করে চাল বিক্রি বন্ধ রাখেন। এরপর দুপুরে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মিল্টন চন্দ্র রায় ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোফাচ্ছেল হোসেন। তারা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে নিম্নমানের দুগর্ন্ধযুক্ত চাল বিক্রি বন্ধ করে ডিলার ছামিনুর রহমানের ৫০ কেজি ওজনের  ২৪৮ বস্তা ও আতাউর রহমানের ৫০ কেজি ওজনের ২৩১ বস্তা চাল তাদের নিজ নিজ গোডাউনে সিলগালা করে দেন।
অভিযোগ উঠেছে,হতদরিদ্রদের জন্য সরকারী খাদ্য গুদামের উন্নত মানের চাল কালোবাজারে বিক্রির করে দিয়ে পচা দুর্গন্ধযুক্ত চাল অল্পমুল্যে কিনে তাই বিতরন করতেছিলেন অভিযুক্ত ডিলারগন।ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোফাচ্ছেল হোসেন জানান, ঝুনাগাছ  চাপানী  ইউনিয়নে ২ জন ডিলারের আটককৃত চাল সরকারী খাদ্য গুদামের নয়।তাি

জব্দকৃত চালগুলো নিন্ম মানের হওয়ায় বিতরন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী  ম্যাজিষ্ট্রেট মিল্টন চন্দ্র রায় বলেন, নিন্মমানের চাল বিক্রির অভিযোগে দুইজন ডিলারের গোডাউন ঘর সিলগালা করা হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, তিনি বিকালে ঘটনা স্থলে ছুটে এসে নিন্মমানের চাল বিক্রির সত্যতা পেয়েছেন। এ ঘটনায় যারা যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন