বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২০ ০৩:২৩:৫৪ এএম

ছাত্রলীগ সভাপতি বেনজিরকে বহিষ্কার, কমিটিও বিলুপ্ত

জেলার খবর | বগুড়া | বুধবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৬ | ১২:১৭:৫৫ এএম

বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গ ও পুলিশকে পেটানোর দায়ে ওই কমিটির সভাপতি বেনজির আহমেদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগকে পাঠানো লিখিত চিঠিতে এই দুটি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের চিঠিটি মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হাতে পান। এরপরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুর রাজ্জাক এবং সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার রায় ওই কমিটি ভেঙে দেয়। একই সঙ্গে কমিটির সভাপতি বেনজির আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশের চিঠিটি রাত নয়টার দিকে হাতে পেয়েছি। 
সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার রায় বলেন, বেনজিরকে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও পুলিশকে মারধরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রিকশাভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর আজিজুল হক কলেজের পুরাতন ভবন এলাকায় কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বগুড়া শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম এবং তাঁর সহযোগীদের সংঘর্ষ বাধে। ওই সংঘর্ষে খুন হন কলেজের বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র এবং ছাত্রলীগের বাংলা বিভাগ শাখার সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম হোসেন। ওই ঘটনার পরপরই পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যাকারীদের সহযোগিতার অভিযোগ এনে ছাত্রলীগ শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় কলেজের নতুন ভবনের সামনে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বেনজিরের হাতে লাঞ্ছিত হন শহরের স্টেডিয়াম ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আল মামুন। এ সময় মারধর ও ছুরিকাহত করা হয় যুবলীগের দুই নেতাকে।
এ ঘটনায় বেনজিরকে প্রধান আসামি করে দায়িত্ব পালনে বাধাদান, পুলিশের ওপর আক্রমণ ও মোটরসাইকেল পোড়ানোর অভিযোগ এনে গত ১ অক্টোবর বগুড়া সদর থানায় মামলা করে পুলিশ। পরে হামলার শিকার যুবলীগের এক নেতা বাদী হয়ে বেনজিরকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেন। মামলার পর থেকেই বেনজির পলাতক।
অন্যদিকে ইব্রাহীম হত্যার ঘটনায় ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর চাচা হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় পৃথক একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন