সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১০:৩৫:৪৭ এএম

ধস নেমেছে রাঙামাটির পর্যটন শিল্পে

প্রান্ত রনি | জেলার খবর | রাঙ্গামাটি | মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৬ | ০১:৩৫:০১ পিএম

পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে বছরের এই সময়টি থেকে শুরু হয় ব্যাপক হারে পর্যটক সমাগম। অথচ হ্রদ পাহাড়ের জেলা রাঙামাটির প্রতি আগ্রহ কমে আসছে পর্যটকদের। যুগের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে রাঙামাটি পেরে উঠছে না পাশের দুই জেলা বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির সাথে। তার মধ্যে এই ভরা মৌসুমেও রাঙামাটিতে নেই আশানুরূপ পর্যটকের আগমন।

পার্বত্য রাঙামাটি এখন অনেক শান্ত ও স্থিতিশীল। তাই পর্যটন মৌসুমে প্রতিবছরই পর্যটকদের সরব উপস্থিতি থাকে লেক পাহাড়ের এ শহরে। প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের আগমনে পর্যটন স্পটগুলো মুখরিত থাকলেও বর্তমানে রাঙামাটিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগত পর্যটকগণ চরম হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে।

পর্যটন এলাকায় অজ্ঞাতনামা হত্যাকাণ্ড, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের উৎপাতসহ নানাবিদ সমস্যার সঙ্গে অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু পানির নীচে ডুবে থাকাসহ ঐতিহ্যবাহি রাজবন বিহারে পর্যটকদে আগমনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষেধসহ ভান্ডারী পাহাড়ে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞায় এবার রাঙামাটি জেলায় আগত পর্যটকরা এখানে অনেক আগ্রহ নিয়ে আসলেও ফিরে যাচ্ছে হতাশ হয়ে। পর্যটক আগমন অনেকটা-ই কমে গেছে এবছর। ফলে হোটেল মোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা এখন গুনছে লোকসান। এমনকি এর প্রভাব পড়েছে টুরিস্টের সাথে জড়িত নৌযান ব্যবসায়। বেকার সময় পার করছে হরেক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শত-শত জনবল।

পাহাড়ের বৈচিত্রময় নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠী ও তাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের জন্যরাঙামাটি শহর দেশি বিদেশী পর্যটকদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হলেও সম্প্রতিপরিসংখ্যান বলে প্রতিবছরই কমছে রাঙামাটিতে পর্যটকদের সংখ্যা। তার মধ্যে বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যা একেবারে তলানিতে। পর্যটন শহর রাঙামাটিকে ঘিরে বিভিন্ন সময় নানাবিধ সমস্যা তৈরি হওয়ায় পর্যটক কমছে বলে ধারনা স্থানীয়দের।

এখানকার যানবাহন ব্যবস্থা একেবারে নাজুক। স্থানীয় মালিক সমিতির দৌরাত্বেরকারণে আধুনিক বিলাস বহুল যানবাহনের সংখ্যা একেবারে হাতেগোনা। তবে রাঙামাটি- চট্টগ্রাম রুটে যে যানবাহনগুলো চলাচল করে সেগুলো নিয়ে যাত্রীদের নানান অভিযোগ রয়েছে। মান্ধাত্বার আমলে যানবাহন দিয়ে এ রুটে চলছে যাত্রী সেবা। প্রায় দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া এসব যানবাহনগুলোর ফিটনেস নিয়েও অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাছাড়া, শহরে সিএনজি অটো-রিকশার ভাড়া নিয়েও আপত্তি পর্যটকদের।

বেশির ভাগ পর্যটক জানান, এখানকার অভ্যন্তরীন সিএনজি ভাড়াটা বেশি। চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটি আসতে যে পরিমাণ ভাড়া দিতে হতে হয়, মাত্র দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরতে সে তুলনায় দ্বিগুণের বেশি ভাড়া প্রদান করতে হয়।

সূদুর বগুড়া থেকে পর্যটক দম্পতির আক্ষেপ, রাঙামাটিতে এসে লাভ কি? ঝুলন্ত সেতু পানির নীচে, নেই শিশু পার্ক, টুরিস্ট ত্তস্পটগুলো যেমন তেমন, সিএনজিরভাড়া আকাশচুম্বি, হোটেলগুলোর মান ভালো না। সন্ধ্যার পর বিনোদনবিহীন শহর। যানবাহনে যে সার্ভিস, ভয়ে বুক কাঁপে। এই পর্যটকের মতোই হিসাব নিকাশ করতে গিয়ে হ্রদ পাহাড়ের জেলা রাঙামাটির প্রতি আগ্রহ কমে আসছে পর্যটকদের।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন