সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ ০৪:২৬:০১ পিএম

৭২ ঘণ্টার সময়সীমায় বন্দি সিলেটের নার্গিসের জীবন

জেলার খবর | সিলেট | বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০১৬ | ১২:০৫:০৯ পিএম

৭২ ঘণ্টার সময়সীমায় বন্দি হয়ে গেছে খাদিজা আক্তার নার্গিসের জীবন। এই ৭২ ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা বলতে পারবেন ব্যারিস্টার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে খাদিজার পথচলা নতুন করে শুরু হবে নাকি মানুষরূপী নরপশুর আক্রোশের অন্তিম শিকারে পরিণত হবে একটি সম্ভাবনাময় জীবন।
স্কয়ার হাসপাতালে মঙ্গলবার বিকালে খাদিজার অস্ত্রোপচার হয়। এরপর থেকে তাকে ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বুধবার সকালে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আবারো ৭২ ঘণ্টা সময়ের কথা বলা হয়েছে।
স্কয়ার হাসপাতালের নিউরোলোজি সার্জন ডা. এ এম রেজাউস সাত্তার বললেন, এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। আমরা মেডিসিন দিচ্ছি ৭২ ঘণ্টা পর সর্বশেষ অবস্থা জানা যাবে যে সে (খাদিজা আক্তার নার্গিস) কি রকম রেসপন্স করছে। অবস্থা তো জটিল, আমাদের চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি, এর পর আল্লাহ যা করেন।
তিনি জানান, সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলবেন না। ব্রিফিং করবে স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের হামলায় গুরুতর আহত সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের অবস্থা সংকটাপন্ন। স্কয়ার হাসপাতালে মঙ্গলবার বিকালে খাদিজার অস্ত্রোপচার হয়। তাকে বুধবার সকালে আবারো ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।মঙ্গলবার বিকেলে খাদিজার মস্তিস্কে অস্ত্রোপচারের পর ডা. এ এম রেজাউস সাত্তার বলেছিলেন, খাদিজার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার শেষ হয়েছে। তাকে এখন ইলেকট্রিক ভেন্টিলেশনে ৭২ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখা হবে। বুধবার সকালে আবারো ৭২ ঘণ্টার কথা জানান তিনি। চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ৭২ ঘণ্টার সময়সীমায় বন্দি হয়ে আছে খাদিজার জীবন।মঙ্গলবার বিকেলে স্কয়ার হাসপাতালের ডেপুটি মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. মির্জা নিজামউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, খাদিজার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তার মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। মাথার খুলি ভেদ করে ব্রেইনে ইনজুরি হয়েছে। খাদিজার হাতেও গভীর ক্ষত রয়েছে বলে জানান তিনি।ডা. নিজাম বলেন, খাদিজার বাঁচার আশা খুবই ক্ষীণ। খাদিজা বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কন্সালটেন্ট ডা. এ এম রেজাউস সাত্তারের অধীনে চিকিৎসাধীন।
সোমবার বিকেলে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় খাদিজা আক্তার নার্গিসকে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একাধিক অস্ত্রোপচার শেষেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাতেই ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
এদিকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কোপানোর ঘটনায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপবি) ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস সিলেট শাহপরান থানায় মঙ্গলবার দুপুরে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।এদিকে খাদিজার ওপর নৃশংস এ হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে এমসি কলেজ। হামলাকারী শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের ফাঁসির দাবিতে বুধবার কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন