মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ১০:০৫:২৩ পিএম

বড়াইগ্রামে ডাক্তার ও নার্স ছাড়াই চলছে ক্লিনিক

আব্দুল হাকিম | জেলার খবর | নাটোর | সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০১৬ | ০৪:০০:২১ পিএম

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ক্লিনিক এন্ড নার্সিং হোমে ওয়ার্ড  বয়কে চিকিৎসক সাজিয়ে প্রতিনিয়ত অপারেশন করছেন মালিকপক্ষ। 
একজনও  এমবিবিএস ডাক্তার, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স ও টেকনিশিয়ান ছাড়া চিকিৎসা  সেবার নামে রোগীদেরকে ঠকিয়ে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা।  সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 
এলাকাবাসী  জানান, জোনাইলের সার ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী ক্লিনিকটি ৬ মাস আগে ভাড়া  নিয়ে চিকিৎসা ব্যবসা শুরু করেন। নিয়মানুযায়ী, একজন সার্বক্ষণিক  এমবিবিএস ডাক্তার ও তিনজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবিকা থাকার কথা থাকলেও তার  একজনও নেই। 
দুজন আয়া দিয়ে চলছে সেবিকার কাজ। বনপাড়ার একটি  ক্লিনিকের ওয়ার্ডবয় উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের আব্দুর রহিম বাদশা সার্জন ও  বনপাড়া আমিনা হাসপাতালের চাকুরীচ্যুত ম্যানেজার জেলার লালপুর উপজেলার  হাপানিয়া গ্রামের প্রদীপ কুমার প্রামাণিক এনেসথেসিয়া ডাক্তার হিসাবে মালিকের সহায়তায় এ ক্লিনিকে নিয়মিত অপারেশন করছেন। 
এভাবে অদক্ষ লোক  দিয়ে অপারেশন করতে গিয়ে প্রায়ই নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি চৌমুহন  গ্রামের সজীব আহম্মেদ তার নিকটা আত্মীয় জমিরন খাতুনের সিজার অপারেশন  করার সময় এই দুই ভূয়া চিকিৎসককে ধরে ফেলেন। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন  জড়ো হলে মালিকের সহায়তায় তারা পালিয়ে যায়।
সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে  জানা যায়, ক্লিনিকের প্যাথলজি বিভাগের কোন লাইসেন্স নেই। ক্লিনিক  সেকশানের লাইসেন্স থাকলেও বিগত দুই বছর যাবৎ নবায়ন করা হয়নি। এছাড়া ১০  বেডের অনুমতি নিয়ে অবৈধভাবে ১২ বেড ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে  ক্লিনিকের মালিক আইয়ুব আলী জানান, আব্দুর রহিম ও প্রদীপ কুমার চিকিৎসক  নয় তা হয়তো সত্য, তবে তারা বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশন করে, তাই আমিও  করাচ্ছি। অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান এভাবেই  চলে, আমরা চালালে দোষ কি? 
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল ইসলাম  সোমবার মোবাইলে জানান, এসব অনিয়ম কোন ক্রমেই সহ্য করা হবে না। আমি  খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবো। তবে ভূঁয়া চিকিৎসকের ব্যাপারে  সবাইকে সচেতন হতে হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন