মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০৯:২০:০৫ পিএম

নাটোর হচ্ছে পাখিদের কলসবাড়ি!

ফজলে রাব্বী | জেলার খবর | নাটোর | মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ০৪:২৭:৪০ পিএম

মনে পরে কি? কবি মদনমোহন র্তকালঙ্কারের কবির্তা পাখিসব করে রব রাত্রি পোহাইল,কাননে কুসুম কলি সকলি  ফুটিল্য়ঁড়এই চরনের কথাগুলো?। 
পাখির জন্য পাখি প্রেমিদের নীরব হাহাকার আমাদের আর কতদিন সহ্য করতে হবে?  বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মূখে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী। ভূ-  প্রকৃতিগত অবস্থানের কারণে আমাদের জীববৈচিত্র্য বেশ সমৃদ্ধ। বাংলাদেশে প্রায় ১২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী,  ৭১৮ প্রজাতির পাখি, ১৫৭ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৪২ প্রজাতির উভচরসহ সর্বমোট ১০৪২ প্রজাতির  বন্যপ্রাণী রয়েছে। কিন্তু আমাদেও অঙ্গতা,অসচেতনতা ,অদূরদর্শীতা কর্মকান্ডের ফলে বন্যপ্রাণী ও এদের আবাসস্থল  হুমকির মুখে। ইতিমধ্যেই আমাদের দেশ থেকে ১৪ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং অসংথ্য  বন্যপ্রাণী আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বাংলাদেশ সরকার বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা)  আইন-২০১২ পাস করেছে। এ আইনে -পাখি শিকার, হত্যা,আটক ও ক্রয় বিক্রয় দন্ডনীয় অপরাধ যার সর্বোচ্চ শাস্তি  ২ বছর কারাদন্ড এবং ২ লক্ষ টাকা জরিমানা। বন্যপ্রাণী আটক, হত্যা,আটক ও ক্রয় বিক্রয় দন্ডনীয় অপরাধ যার সর্বোচ্চ  শাস্তি ১২ বছর কারাদন্ড এবং ১৫ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। 
যা অনেকে জানেনও না, আবার অনেকে  জেনেও তা মানেন না। এ দিকে নির্বিচারে শিকারের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে অসংখ্য বন্যপ্রাণী। নাটোর  জেলাকে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল ঘোষণার লক্ষে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ্য়ঁড়ঃ;সবুজ বাংল্য়াঁড়ঃ;। সংগঠনের পক্ষ  থেকে নাটোরে চলছে পাখি ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে সচেনতা সৃষ্টি, আটক দেশীয় প্রজাতির পাখি উদ্ধার, চিকিৎসা ও  অবমুক্তর পাশাপাশি পাখিদের কৃত্রিম বাসা তৈরির কাজ। বিভিন্ন স্থানে পাখিদের বাস উপযোগী নতুন  প্রযুক্তিতে তৈরি গাছে গাছে শত,শত মাটির হাঁড়ী বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় পাখিদের আনাগোনা  বাড়াতে প্রতিদিন দানা জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। পাখিদের বাসযোগ্য বৃক্ষ নিধন, খাদ্য সংকট, কৃষি  ক্ষেতে অতিরিক্ত সার-কীটনাশক প্রয়োগ, প্রাকৃতকি দূযোগ, শিকারিদের তান্ডব বেড়ে যাওয়ায় নাটোরে  দিনদিন কমতে শুরু করেছে দেশীয় প্রজাতির পাখির সংখ্যা। তাই বন্যপ্রাণী রক্ষায় ব্যাতিক্রমী কার্যকম শুরু করেছে  স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন্য়ঁড়ঃ;সবুজ বাংল্য়াঁড়ঃ;। 
ইতিমধ্যে পাখি সংরক্ষনে অংশ নিতে শুরু করেছে অসংখ্য তরুন। সংগঠনের  উদ্যোগে পাখি সংরক্ষনে গ্রামে গ্রামে ছোট,বড় সবাইকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে মিনি টিম। সংগঠনের  প্রতিষ্টাতা ও পরিচালক ফজলে রাব্বী বলেন, এখনই সময় এসেছে বন্যপাখিদের রক্ষার, এখন ব্যবস্থা গ্রহন না করলে,  ভবিষ্যতে দেশীয় পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে, শুধু পাখিই না, সকল বন্যপ্রাণী  আমাদের দেশেরই সম্পদ। তাদের সংরক্ষন, নিরাপত্তা প্রদান আপনার, আমার সকলেরই দায়িত্ব। অনেকেই মনে প্রশ্ন হতে  পারে,পাখিরা কি বাসা বানাতে ভুলে গেছে? কিংবা আপনার এমন কাজ পাখিদের অলস বানিয়ে দিচ্ছেনাতো?  এমন প্রশ্নের জবাবে ফজলে রাব্বী বলেন,এগুলো হল বিশেষ ভাবে তৈরি পাখির কৃত্তিমবাসা। যা আমাদের সংগঠন  সবুজ বাংলা,ও উদ্যোগে নাটোরের বিভিন্ন এলাকায় গাছগুলোতে পাখির কৃত্তিমবাসা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
 অধিকাংশতে পাখিরা বাসাও তৈরি করে ফেলেছে। আসলে পাখিরা বাসা তৈরিতে ভুলে যায়নি,শুধু মাত্র প্রজননের সময়  বেশিভাগ পাখি বাসা তৈরি করে থাকে। পাখিদের নিরাপদ বাসা তৈরির জন্য যে পরিমান গাছ প্রয়েজন তা আমাদের  দেশে নেই।উপরান্ত আমরা পাখিদের বাধ্য করে বাসার মধ্যে রাখিনা। পাখিদের জন্য বাসা তৈরির সুযোগ করে  দিচ্ছি মাত্র।
পাখি তাদের ইচ্ছা মত হলে বাসা তৈরি করে,মন মত নাহলে-বাসা ধারের কাছেও যায়না। এটা প্রমানিত  যে,সকল কৃত্তিম বাসায় পাখিরা বাচ্চা তোলা না। তাই অলসতার কোন প্রশ্নই উঠেনা,কারন বাসাগুলো স্থাপন  করার পর ঐ বাসার মধ্যে তারা খড়কুটা,লতা-পতা,গাছের ছোট ডাল দিয়ে তাদের মত ঘর সাজায়। আমাদের লক্ষ্য শুধু  পাখিদের বংশ বৃদ্ধি করা না।আমাদের লক্ষ্য পাখিদের খাচাঁর মধ্যে ধরে না রেখে প্রকৃতিতে তাদের সৌন্দর্য্য  উপভোগ করা। মানুষের মধ্যে পাখি ও প্রকৃতির জন্য ভালবাসা তৈরি করা। ছবিগুলো সম্প্রতি নাটোর সদর উপজেলার  ফুলবাগান,বনবেলঘড়িয়া এবং নলডাঙ্গার উপজেলার বাঁশভাগ,মাধনগর থেকে তোলা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন